সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্তের পর গ্রেডভেদে কার বেতন কত বাড়ছে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে কোন গ্রেডে কারা চাকরি করেন, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
নতুন কাঠামোয় আগের মতোই সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। গ্রেড-১ সর্বোচ্চ এবং গ্রেড-২০ সর্বনিম্ন। নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেড-১-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার এবং গ্রেড-২০-এর ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে।
পে-স্কেল কী
পে-স্কেল বা বেতন স্কেল হলো সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন নির্ধারণের কাঠামো। কোন পদ কোন গ্রেডে থাকবে, সেই গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন কত হবে এবং চাকরির মেয়াদে বেতন কীভাবে ধাপে ধাপে বাড়বে—এসব বিষয় এই কাঠামোর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়ে একজন সরকারি চাকরিজীবীর মোট বেতন নির্ধারিত হয়।
তবে একটি গ্রেডে শুধু একটি পদ থাকে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, ক্যাডার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে একই গ্রেডে একাধিক ধরনের পদ থাকতে পারে। আবার স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা বেতন আদেশও রয়েছে।
কোন গ্রেডে কারা?
১ম গ্রেড: সচিব ও সমমর্যাদার সর্বোচ্চ পর্যায়ের বেসামরিক কর্মকর্তাদের পদ এ গ্রেডের উদাহরণ।
২য় গ্রেড: অতিরিক্ত সচিব ও সমমর্যাদার পদ এ গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।
৩য় গ্রেড: যুগ্ম সচিব ও সমমর্যাদার পদ এ গ্রেডে রয়েছে।
৪র্থ গ্রেড: উপসচিব ও সমমর্যাদার পদ এ গ্রেডের উদাহরণ। সরকারি কলেজের অধ্যাপক পদও এই গ্রেডের, তবে নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদোন্নতির মাধ্যমে তারা ৩য় গ্রেড পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।
৫ম গ্রেড: সিনিয়র সহকারী সচিব ও সমমর্যাদার পদ এ গ্রেডে রয়েছে। সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পদও এই গ্রেডের।
৬ষ্ঠ গ্রেড: বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সমমর্যাদার পদ এ গ্রেডে রয়েছে। সহকারী সচিব, সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা এই গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।
৭ম–৮ম গ্রেড: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পর্যায়ের বিভিন্ন পদ এ দুই গ্রেডে রয়েছে।
৯ম গ্রেড: সরকারি চাকরিতে বহুল পরিচিত প্রবেশ পর্যায়ের কর্মকর্তা পদগুলোর একটি হলো ৯ম গ্রেড। সহকারী সচিব, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), সহকারী সার্জন/মেডিক্যাল অফিসার, সহকারী প্রকৌশলী ও সরকারি কলেজের প্রভাষক—এ ধরনের পদ এই গ্রেডের উদাহরণ।
১০ম–১৩তম গ্রেড: বিভিন্ন দফতরের কারিগরি, প্রশাসনিক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ এ স্তরে রয়েছে। উপসহকারী প্রকৌশলী ১০ম গ্রেডের একটি উদাহরণ।
১৪তম–১৬তম গ্রেড: বিভিন্ন প্রশাসনিক, কারিগরি ও সহায়ক পদ এ স্তরে রয়েছে। অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকসহ বিভিন্ন পদ এর উদাহরণ।
১৭তম–২০তম গ্রেড: বিভিন্ন সহায়ক ও নিম্নগ্রেডের কর্মচারীর পদ এ স্তরে রয়েছে। এর মধ্যে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে।
গ্রেডের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—গ্রেড নম্বর যত কম, বেতন কাঠামোয় পদটি তত উচ্চ পর্যায়ের। তবে গ্রেড দিয়ে সব সরকারি পেশাকে একেবারে এককভাবে চিহ্নিত করা যায় না। পদ, ক্যাডার, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি অনুযায়ী গ্রেড নির্ধারিত হয়। বিশেষ করে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও পৃথক বেতন আদেশের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাঠামো ভিন্ন হতে পারে।
নতুন বেতনকাঠামোয় ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। গ্রেড-১ থেকে ১১ পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ হয়েছে। আর ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশের মধ্যে।