ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন বোর্ড অব গভর্নরস গঠন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন বোর্ড অব গভর্নরস গঠন করেছে সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত এই বোর্ডে পদাধিকারবলে ছয়জন, প্রতিমন্ত্রীসহ দুই সংসদ সদস্য এবং দেশের পাঁচজন মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। সব মিলিয়ে বোর্ডের সদস্য ১৩ জন।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. জেহাদুল বারীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫-এর ৬(১) ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার এই বোর্ড গঠন করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদাধিকারবলে বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। গভর্নর হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকার মনোনীত দুই সংসদ সদস্যও গভর্নর হিসেবে বোর্ডে স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন—ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পাঁচজনকে গভর্নর মনোনীত করেছে সরকার।

তারা হলেন—মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুহতামিম, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা ও যুগ্ম মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ; মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যক্ষ, চরামোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদরাসা, চরামোনাই, বরিশাল; মাওলানা মাহফুজুল হক, মহাসচিব, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক); মুফতি আজহারুল ইসলাম, মহাপরিচালক, মারকাযুল হুদা আল-ইসলামী বাংলাদেশ ও সহকারী মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ; এবং মুফতি শরীফ উল্লাহ, প্রিন্সিপাল, নূরে মদিনা আল-আরাবিয়া মাদরাসা, খতিব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, যাত্রাবাড়ী এবং মহাসচিব, সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ।

প্রজ্ঞাপনে বোর্ডের মনোনীত সদস্যদের মেয়াদের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। পদাধিকারবলে নিযুক্ত গভর্নর ছাড়া অন্য গভর্নররা গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছর দায়িত্বে থাকবেন। তবে তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলেও তাদের স্থলে সরকার নতুন গভর্নর মনোনয়ন না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

একইসঙ্গে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনও সময় পদাধিকারবলে থাকা সদস্য ছাড়া অন্যকোনো গভর্নরকে পরিবর্তন বা তার পদ শূন্য ঘোষণা করতে পারবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।