পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন কমিটি গঠন নিয়ে নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তিন কমিটি গঠন এবং সামরিকায়ন বৃদ্ধির আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক সমাজের ৫২ জন প্রতিনিধি। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। পাহাড়ের আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার সুরক্ষার দাবিকে উপেক্ষা করে সামরিকায়নের মাধ্যমে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল দীর্ঘদিন। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২৯ বছর পরও চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পাহাড়ের সমস্যার কার্যত কোনও সমাধান হয়নি।  

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী, নির্বাহী কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পরামর্শক কমিটির সভাপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান। জাতীয় ও নির্বাহী কমিটিকে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই)। 

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গোয়েন্দা ও সেনা কর্তৃত্বের নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হলে আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিকায়ন ও দমন-পীড়ন জোরদার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রস্তাবিত ‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। 

তারা সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব বৈধ প্রতিনিধির সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কমিটিগুলোকে গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে পুনর্গঠন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী আমলাতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার যেকোনও প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।