বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস আজ: অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের আহ্বান জাতিসংঘের

আজ বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক চর্চাকে উৎসাহিত করা এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবস্থা পর্যালোচনার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, ২০০৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন শুরু হয়।

এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Raising Hands and Voices— Fostering Agency and Ownership through Deliberative Democracy’, অর্থাৎ হাত ও কণ্ঠস্বর উঁচু করা— আলোচনামূলক গণতন্ত্রের মাধ্যমে নাগরিকের অংশীদারত্ব ও মালিকানা নিশ্চিত করা। জাতিসংঘের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এ বছরের থিমের মূল বার্তা হলো গণতন্ত্রের প্রাণ হলো মানুষের কণ্ঠস্বর, সরাসরি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কীভাবে তারা শাসিত হবে তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা। 

এ উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দফতরে আজ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল (ইউএনডিইএফ)। সেখানে আলোচনামূলক গণতন্ত্র কীভাবে বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে তা নিয়ে আলোচনা হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব তার বাণীতে বলেছেন, অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। নারী, যুবসমাজ এবং সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে না। 

আন্তোনিও গুতেরেস সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একত্র করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সমৃদ্ধ করা, পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো এবং আরও শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।’ 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ১৯৯৭ সালে ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন’ (আইপিইউ) গণতন্ত্র বিষয়ে ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অন ডেমোক্রেসি’ নামে একটি প্রস্তাব আনে। 

এর আগে ১৯৮৮ সালে ফিলিপাইনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

২০০৬ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় আইসিএনআরডির ষষ্ঠ সম্মেলনে ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ পালনের প্রস্তাব আসে। পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হলে ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে ১৫ সেপ্টেম্বরকে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। 

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনও স্বৈরশক্তিই মাথা চাড়া দিতে পারে না।’ গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।