‘তথ্য কমিশন গঠনে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তখন সরকারে যারা ছিলেন তাদের অনেকেই আমাদের বন্ধু ছিলেন। তাদের হাত পায়ে ধরেছি কমিশন গঠন করুন, কমিশন গঠন করুন। তারা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকারের সাত মাস পার হয়ে গেছে, একই ধারা। তারাও সেদিকে ধাবিত হচ্ছে।’
এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি স্টার কনভেনশন হলে ‘আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত তথ্য অধিকার সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কমিশন গঠনে অত্যন্ত সচেষ্ট হয়ে ব্যর্থতার এই বিশ্বরেকর্ড করার দিকে ধাবিত হয়েছে সরকার এবং এমন একটা বিশ্বরেকর্ড হয়েছে এই রকম আইন করে যে আর কোন দেশ বানাতে পারবে না। অত্যন্ত বিব্রতকর বিষয়। এটা আইনের লঙ্ঘন। আমরা মানুষ যখন আইনের লঙ্ঘন করি আমাদের বিচার হয়। সরকার যখন আইনের লঙ্ঘন করে তখন কি হবে?’
তিনি বলেন, ‘বিচার একটাই আছে সরকারের জন্য জনগণের আস্থা। যদি সে আস্থা হারায়। সেটার প্রতিফল বিভিন্নরূপে ঘটে। ইতিহাস সবাইকে মনে করিয়ে দেয়। আর দ্বিতীয় হচ্ছে যে, কমিশনকে গঠিত হবে আমরা আশাবাদী হতে চাই যে কমিশনটি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করার মতো কমিশন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদিও ট্র্যাক রেকর্ড আশাবাদের কোনও একটা সুযোগ দেয় না আমাকে। এমনকি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে যতগুলো হয়েছে সবজায়গাতেই দলীয়করণ।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অতীতে আমাদের দলীয় ক্যাডার দ্বারা পরিচালিত হয়েছে তথ্য কমিশন। আমাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবারও যদি একই অবস্থা যদি হয় এবং একই সঙ্গে সেটা না হলেও যদি এমন হয় যেটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী হলেও আমার উদ্বেগ প্রকাশ হয়েছে। দেখতে চাই আসলে সত্যিকার অর্থে কেমন কমিশন হয়।’
কমিশন গঠন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটা সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের কাছে, দেশবাসীর কাছে এমন একটা তথ্য কমিশন উপহার দেওয়া সম্ভব করা, যাতে মানুষের কমিশনের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং তার মাধ্যমে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়বে।
‘দ্বিতীয় যে বিষয়টি বলতে চাই সেটা হচ্ছে— আইসিটি সংশোধনী বিষয়ে। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। সেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে হয়েছে এবং তার আগের সরকারের সঙ্গে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সঙ্গে হয়েছে। সরকার এখন তথ্য কমিশন তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের বিষয়টিকে আপাতত উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা না জেনে গুলিয়ে ফেলতে চাচ্ছেন অপতথ্য থেকে।’
ভুয়া তথ্য, অপতথ্য প্রতিরোধের বিষয় উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও নাই যে তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে আপনি অপতথ্য, ভুয়া তথ্য, মিথ্যা তথ্য গুলিয়ে ফেলেন। আপনি অপতথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য, মিথ্যা তথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা আইন করেন। কিন্তু তথ্য অধিকার আর অপতথ্য সম্পূর্ণ আলাদা দুই জিনিস।’
এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশন বাংলাদেশের সচিব মো. শাহ আলম, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র পরিচালক ড. কে. এম. মামুন উজ্জামান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইইউ ডেলিগেশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পলিটিক্যাল, ইকনোমিক, ট্রেড, প্রেস এন্ড ইনফরমেশন সেকশন) কামিলা পার্তিকা, নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের ডিরেক্টর ড. আদি ওয়াকার। তথ্য অধিকার জরিপ ২০২৬-এর প্রধান গবেষক ড. অনন্য রায়হান, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রমুখ।