পর্যটন খাতে বিনিয়োগে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের আহ্বান

দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে ‘বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগকে গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। সুন্দরবন, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের পাহাড়-হ্রদ ও সিলেটের চা-বাগানের পাশাপাশি দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিজস্ব গল্প রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে সুপরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পে রূপান্তর করা এখন সরকারের লক্ষ্য।

পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে কাজ করছেন। অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অংশ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

এভিয়েশন খাতে সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী

বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নের সঙ্গে পর্যটন খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ বহর গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এয়ার কার্গো খাতের একটি বিষয়েও ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা চান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও ডাককে ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, গত ১৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের মূল্যায়নে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে। এ বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহারে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

‘বাংলাদেশের পর্যটনে বিনিয়োগ করুন’

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নেও যুক্তরাজ্যের পাশে থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানাই—বাংলাদেশে আসুন এবং আমাদের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ করুন। আমরা আপনাদের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই এবং একটি অনুকূল, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।