গত ২০ বছরে পর্যটন খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি: মন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বিগত ২০ বছরে দেশের পর্যটন খাতে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে গত এক সপ্তাহে শোভাযাত্রা, সাইকেল র‌্যালি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সিটি ট্যুর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। দেশজুড়ে এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এবারই প্রথম ১৬টি ক্যাটাগরিতে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এ পুরস্কার পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকেও এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে। জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান বর্তমানের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলাভূমিভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক পর্যটনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ পর্যটনের অন্যতম ভিত্তি। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, লোকজ ঐতিহ্য, উৎসব ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে সাংস্কৃতিক পর্যটন আরও বিকশিত করা সম্ভব। দেশের ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কার্যক্রম চলছে।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যটন উদ্যোক্তা, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা, ট্যুর অপারেটর এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগবান্ধব নতুন জাতীয় পর্যটন নীতিমালা-২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এমন একটি পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।

টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের গল্প সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।