রিকশাচিত্রের শিল্পীদের জন্য বিশ্বমঞ্চে নতুন সুযোগ

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিকশাচিত্রকে বিশ্বমঞ্চে আরও মর্যাদাপূর্ণভাবে তুলে ধরা এবং এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের নতুন সুযোগ তৈরিতে ইউনেস্কো ও উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকায় ইউনেস্কোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইউনেস্কোর পক্ষে অফিস প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ এবং উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের পক্ষে প্রধান কৌশলগত পরিকল্পনাবিদ সুমন পাটওয়ারী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ড. সুজান ভাইজ বলেন, “রিকশাচিত্র একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যা শিল্পীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতায় টিকে আছে। এই শিল্পধারাকে বাঁচিয়ে রাখার মূল শক্তি শিল্পীরাই। ইউনেস্কো ও উইন্ডমিলের এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা শিল্পীদের জীবন ও জীবিকায় সহায়তা করব এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের দক্ষতা পৌঁছে দিতে সাহায্য করব, যেন এই ঐতিহ্যের চর্চা ও বিকাশ অব্যাহত থাকে।”

সুমন পাটওয়ারী বলেন, “এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের রিকশাচিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি করতে চাই। সৃজনশীল যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন বাজারের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে রিকশাচিত্রকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”

২০২৩ সালে ‘ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রিকশাচিত্রের ইতিহাস, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ইউনেস্কো ও উইন্ডমিল।

অংশীদারত্বের আওতায় ‘রিকশা পেইন্টিং: এক্সপ্যান্ডিং দ্য ক্যানভাস’ শীর্ষক একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে রিকশাচিত্রের শিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আয়োজন, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণ, বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে শিল্পীদের সংযুক্ত করা এবং প্রদর্শনী ও প্রচারণার মাধ্যমে এ শিল্পধারাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিল্পীদের জীবিকায় সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের রিকশাচিত্রে ফুটে ওঠা সৃজনশীলতা, গল্প ও চিত্রভাষা তুলে ধরাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো ঢাকার সংস্কৃতি প্রধান কিযী তাহনিন, প্রোগ্রাম সহকারী বিপাশা ত্রিপুরা এবং উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের অপারেশন ও ক্লায়েন্ট সার্ভিস ম্যানেজার মো. মতিউর রহমান রাব্বি।

এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় ইউনেস্কোর কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে সৃজনশীল যোগাযোগ, জনসচেতনতা, ডিজিটাল প্রচার ও সক্ষমতা উন্নয়নে উইন্ডমিলের অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি রিকশাচিত্রের শিল্পীদের জ্ঞান ও দক্ষতা নথিবদ্ধ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।