সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেখানকার পুলিশ বক্সটি। পরবর্তীতে পুলিশ বক্সটির সংস্কার এবং মিরপুর-১০ এলাকার সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে চলমান সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বক্সটি পুনরায় সংস্কারের কাজ চলছে। এই সংস্কারকাজের সুবিধার্থে পুলিশ বক্সের দেয়ালে সংযুক্ত জুলাইয়ের শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের নামফলকগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে নামফলকগুলো সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য জানানো প্রয়োজন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশনায় সংস্কারকাজের জন্য নামফলকগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এগুলো স্থায়ীভাবে অপসারণের কোনও উদ্দেশ্য নেই। বরং প্রশাসকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নামফলকগুলো আরও সুন্দর, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দনভাবে নকশা করে মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় এমনভাবে স্থাপন করা হবে, যাতে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলো আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা যায়।
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। নামফলকগুলো নতুনভাবে আরও নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনাও সেই প্রতিশ্রুতির অংশ বলে জানানো হয়েছে।
সুতরাং, সংস্কারকাজের প্রয়োজনে নামফলকগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে প্রকৃত বিষয়টি জানা জরুরি। পুলিশ বক্সের সংস্কার ও মিরপুর-১০ গোলচত্বরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন হলে জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলকগুলো আরও আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দনভাবে উপস্থাপন করা হবে-এমনটাই জানানো হয়েছে।
উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা- এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই মিরপুর-১০ গোলচত্বরকে আরও সুন্দর ও নান্দনিক করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।