আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আজ

আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কন্যাশিশুরা এখনও বাল্যবিবাহ, অপুষ্টি, সহিংসতা, যৌন হয়রানি, শিক্ষাবঞ্চনা ও নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এসব বাধা দূর করে তাদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালন করা হয়। কন্যাশিশুদের অধিকার ও বিশ্বজুড়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি নির্ধারণ করা হয়।

জাতিসংঘের নির্ধারিত ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন এবং কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিতে বিনিয়োগ করুন।’ এ প্রতিপাদ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ২০ লাখের বেশি কন্যাশিশুর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। বাল্যবিবাহের কারণে তাদের শিক্ষা ব্যাহত হয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ে। দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার ও লিঙ্গবৈষম্য এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। 

বাংলাদেশে কন্যাশিশুর শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা সম্ভব।