পুরান ঢাকার চকবাজারের চক মোগলটুলী সড়কের মুনসুর খাঁন প্লাজায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ছয়তলায় থাকা দোকানের মালামাল। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ব্যবসায়ীরা এখনও উপরে উঠতে পারছেন না।
ফলে তাদের নিচে দাড়িয়ে থেকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় প্রহর গুণতে হচ্ছে। আগুন নেভানো হলেও ব্যবসায়ীরা বলতে পারছেন না তাদের দোকান বা গোডাউনের মালামালের বিষয়ে। গোডাউনের দরজা খুলে ভেতরের মালামাল দেখার আগপর্যন্ত তারা জানেন না, তাদের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে আগুন নেভানো হলেও ভবনের ওপর থেকে ধোয়া বের হতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুন লাগা ভবনটির নিচে অপেক্ষা করছেন ব্যবসায়ী ও কর্মচারী এবং তাদের স্বজনরা।
তাদের মধ্যে মো. আকাশ নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভবনটির ৪ তলায় তার কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। দোকানে প্রায় ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুন লাগার পরপর অর্ধেক মালামাল বের করতে পেরেছেন। বাকি অর্ধেক পুড়ে গেছে।’
আরিফ নামের একজন বলেন, ‘ভবনটির ৬ তলায় ভাই খোরশেদ আলমের ব্যাগের ব্যবসা রয়েছে।’
জামাল হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার ছাতার ব্যবসা রয়েছে।’ আগুনে তার কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ভবনের ওপরে গোডাউন রয়েছে। হয়তো কোনও দোকানের কর্মচারী উপরে ওঠে বিড়ি-সিগারেট খেয়েছিলেন।’ তার উচ্ছিষ্ট ফেলা হলে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তিনি ধারণা করছেন। আগুন বৈদ্যুতিক শটসার্কিট বা অন্য কোনও কারণে লাগেনি বলে দাবি তার।
আগুন লাগা ভবনের সামনে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন। তাদের চোখেমুখে ছিল অনিশ্চয়তা, ভেতরে থাকা মালামাল ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
একজন গোডাউন মালিক মো. রবিন। তিনি বলেন, ‘আগুন লাগা ভবনটি সাততলা। ভবনের সাত, ছয় ও পাঁচতলায় কসমেটিক পণ্য ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। আমাদের গোডাউন ছয়তলার ডান পাশে। আগুনও লেগেছে ছয়তলায়। ভেতরে তো যাওয়া যাচ্ছে না। গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। এখন যদি সব পুড়ে যায়, আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাবো।’
তিনি জানান, এই তিনতলায় ৫০টির বেশি গোডাউন রয়েছে। প্রতিটি গোডাউনে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মালামাল আছে। নিচের তলাগুলোতে ব্যাগ ও কসমেটিকের দোকান রয়েছে।
রবিন বলেন, ‘আগুন মূলত ছয় ও সাততলায় লেগেছে। পাঁচ ও ছয়তলায় গোডাউন থাকায় এসব তলায় কেউ থাকে না। মালামাল নেওয়ার প্রয়োজন হলে সবাই এখানে আসে। সোমবার বিকাল ৫টার দিকে নিচের দোকানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পাই। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ভেতরে যেতে পারিনি।’
আগুন লাগা ভবনের অন্যান্য গোডাউনের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় তারা এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছেন না। গোডাউনে থাকা মালামাল আদৌ রক্ষা পেয়েছে কিনা, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। আগুন ছয় ও সাততলায় ছড়িয়ে পড়ে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকায় কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে রয়েছে কসমেটিকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের অসংখ্য দোকান। দোকান বন্ধ থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
আশাপাশের দোকানও বন্ধ
আগুন লাগার পর থেকেই বন্দ রয়েছে মুনসুর খাঁন প্লাজাসহ আশপাশের দ্কোনগুলোও। সেগুলোর ব্যবসায়ীরাও অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি স্বাভাাবক হওয়ার, দোকান খোলার।
আগুন লাগা ভবন মুনসুর খাঁন প্লাজার পাশের একটি ভবনে কসমেটিকসের দোকান রয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের। তিনি বলেন, সোমবার বিকাল থেকে আমাদের দোকান বন্ধ। এত দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আমরা চাই, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক, যাতে আবার ব্যবসা করতে পারি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।