২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য সরকারের

২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর, দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম ও রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা যাচ্ছে না। সড়ক নিরাপত্তার উদ্যোগ শুধু নির্দিষ্ট দিবসকেন্দ্রিক না রেখে সারা বছর ধরে কার্যক্রম চালাতে হবে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। বৈঠকে সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশের প্রচলিত সড়ক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা জরুরি। অনিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার কারণে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের অনিয়ম ও প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে সরকার কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে সড়ক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বেতন-ভাতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে একই কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম খালিদ মাহমুদ বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সরকারের অঙ্গীকার ও সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে উপস্থাপনা দেন।

গোলটেবিলের উন্মুক্ত আলোচনায় সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, কার্যকর গতিসীমা ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ যানবাহন, সড়ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা ও চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ পদ্ধতির মূল ধারণা হলো, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সড়ক ব্যবহারকারীদের নয়। নীতিনির্ধারক, সড়ক কর্তৃপক্ষ, পরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বাস্থ্য খাত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।