বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ)উদ্যোগে অভিবাসন অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্যবহুল ও অনুসন্ধানী সংবাদ ও প্রতিবেদনের জন্য ‘মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদ্ন করা হয়।
সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনড অ্যান্ড ইনফর্মেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস দুই)’ প্রকল্পের অ্যাক্সেস টু জাস্টিস কার্যক্রমের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদুল হক।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণ শেষে দেড় মাসব্যাপী সংবাদ প্রকাশের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। জমাকৃত ১৭টি প্রতিবেদনের মধ্য থেকে ৪টি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকেরা হলেন— বাংলা স্ট্রিমের স্টাফ রিপোর্টার তৌফিক হাসান, চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মো. শাহেরীন আরাফাত এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাছুম কামাল।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে এধরনের উদ্যোগের জন্য ‘বিএনডব্লিউএলএ’-কে সাধুবাদ জানান। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা থাকে সংখ্যাগতভাবে এত লোককে বিদেশে পাঠাতে হবে। বর্তমান সরকারেরও তেমন টার্গেট রয়েছে। তবে এর সাথে গন্তব্য দেশের ঝুঁকি যাচাই, দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ে কোনও গবেষণা সেল নাই। দৈনন্দিন সমসাময়িক ইস্যুতে এত ব্যস্ততা থাকে যে, গবেষণার দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ হয় না। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের তথ্যবহুল, অধিকতর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ও গবেষণামুলক প্রতিবদন তৈরি ও প্রকাশের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএমইটির পরিচালক নাজমুল ইসলাম সরকার,বাংলাদেশ আইন সহায়তা অধিদফতরের সহকারী পরিচালকরিফাত আরা সুলতানা। সিমস, হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী সাজ্জিদ আহমেদ।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, অভিবাসী শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যা ও প্রতারণার চিত্র গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানমূলকভাবে উঠে এলে, তা একদিকে যেমন জনসচেতনতা বাড়াবে, অন্যদিকে দায়িত্বশীল পক্ষগুলোকে কার্যকর সমাধান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করবে।