সড়কে এত এত প্রাণহানি, শৃঙ্খলা ফিরবে কবে

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশে থামছে না প্রাণহানি। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামো, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা, অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি চালকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনির্দিষ্ট বেতন ও কর্মপরিবেশ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জবাবদিহির ঘাটতিও সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৪ হাজার ৬১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ২১১ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন। দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার, ট্রাফিক আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুধু আইন কঠোর করা বা অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সারা বছর কার্যকর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের দক্ষতা যাচাই এবং গণপরিবহনে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে।

চলতি বছরের দুর্ঘটনা ও হতাহতের চিত্র

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৫১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪৩২ জন। মার্চে ৫৭৬টি দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন এবং এপ্রিলে ৪৬৩টি দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন প্রাণ হারান।

মে মাসে ৬১৪টি দুর্ঘটনায় ৫৯৮ জন নিহত হন, যা বছরের প্রথম নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে ৪৭২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন, জুলাইয়ে ৪৫৮টি দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন এবং আগস্টে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২৩ জন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১৬ হাজার ৪০২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ হাজার ২৭ জন।

গত সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, ওই মাসে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এ ছাড়া ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ মোট নিহতের ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌ দুর্ঘটনার তথ্যও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গত সেপ্টেম্বরে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

সড়কে দুর্ঘটনা কেন ঘটছে

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামো, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা এবং শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছে।

এ ছাড়া চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আইন না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা কমাতে না পারলে দুর্ঘটনা ও যানজট কোনোটিই কমবে না। ছোট ছোট অনেক যানবাহন আইন মানতে চায় না। এসব যানবাহনের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। মোটরসাইকেল এ ক্ষেত্রে বড় একটি অংশ। দুই চাকার যান চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, ইদানীং এ সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইজিবাইক। এসব যানবাহন মানসম্মত নয়, চালকদেরও সড়ক সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নেই। তাঁরা উল্টো দিকেও চলাচল করেন। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, যা দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শামসুল হক বলেন, অন্যান্য দেশে সড়কের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হলো সারা বছর নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজ করছে না, তাদের জবাবদিহির আওতায়ও আনা হচ্ছে না। সরকারও তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করছে না। ফলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করা হলেও সড়কের বিশৃঙ্খলা না কমায় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের ফিটনেস এবং চালকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনার পরপরই চালকের ওপর দায় চাপানো হয়। অথচ একজন চালককে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে হয়। তার নির্দিষ্ট বেতন নেই, কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তা থাকে। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, স্বাস্থ্যসেবার অভাব, পিঠে ব্যথা এবং রক্তচাপের ওঠানামার মতো সমস্যাও থাকতে পারে। ফলে দুর্ঘটনার দায় শুধু চালকের নয়, ব্যবস্থাপনারও।

সাইদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রথমে ব্যবস্থাপনা, এরপর মোটরযান এবং তারপর চালকের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। সঠিকভাবে কাজ করলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় নিয়ে আসা সম্ভব।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব লিটন এরশাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গত এক-দুই বছরের পর্যবেক্ষণে ইজিবাইককে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সড়ক ও মহাসড়কের পাশাপাশি নগর সড়কেও এসব যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। মোটরসাইকেলও বিপজ্জনক বাহন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই দুটি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।

তিনি বলেন, বাস, ট্রাক ও মিনিবাসের কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেকটা কমেছে। তবে এসব যানবাহনের দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি ও পাল্টাপাল্টি চলাচলের মতো কারণ রয়েছে। বর্তমানে ইজিবাইকও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লিটন এরশাদ বলেন, সড়কে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া বা আইন কঠোর করার পাশাপাশি ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগুলোকে সীমিত পরিসরে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা না গেলে আইন ও ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

চালক ও পথচারীদের ভুল কোথায়

চালক ও পথচারীদের ভুল সম্পর্কে জানতে চাইলে লিটন এরশাদ বলেন, সড়ক পারাপারের সময় এমনকি ফুটপাতেও অনেক পথচারী মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। ফোনের প্রতি মনোযোগের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া পথচারীরা এখনো জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে অভ্যস্ত হননি। তাঁরা কোনাকোনি রাস্তা পার হন, এদিক-সেদিক দিয়ে চলাচল করেন এবং যখন-তখন হাত দেখিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নিয়ম সম্পর্কে জানার পরও অনেকে তা মানেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ হেসে উড়িয়ে দেন, আবার কেউ বিরক্তি প্রকাশ করেন। পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি। মাঠপর্যায়ে জরিপ করলে পথচারীদের রাস্তা ব্যবহারের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের চিত্র পাওয়া যাবে।

লিটন এরশাদের ভাষ্য, অনেক পথচারীর মধ্যে ধারণা রয়েছে, হাত দেখিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে গাড়ি থেমে যাবে। কিন্তু গাড়ি যান্ত্রিক যান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে থামানো সব সময় সম্ভব নয়। এ বিষয়টি পথচারীদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

অন্যদিকে, চালকদের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটার প্রবণতা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে মনে করেন লিটন এরশাদ। তার মতে, চালকদের আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, প্রশিক্ষণ, আইনের কঠোরতা এবং মালিকদের সচেতনতার কারণে কিছু পরিবহনের চালকদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে চালকদের ভুলে দুর্ঘটনা ঘটছে না, এমনটি বলা যাবে না।

কী করলে সড়কে ফিরবে শৃঙ্খলা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পথচারী ও যাত্রীদের সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দেন লিটন এরশাদ। তিনি বলেন, সবাই দায়িত্বশীলভাবে চলাচল করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এরপর সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো অতিরিক্ত গতি। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। মোটরসাইকেলকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। গণপরিবহন র‍্যাশনালাইজেশনের মাধ্যমে পরিচালনার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এতে পাল্টাপাল্টি চলাচল, হুড়াহুড়ি ও প্রতিযোগিতার প্রবণতা কমবে।

এ ছাড়া আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়কের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন লিটন এরশাদ। তার মতে, বিদ্যমান সড়কগুলোকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করতে প্রকৌশলগত কী কী পরিবর্তন আনা যায়, তা বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

সড়ক নিরাপদ করতে করণীয় সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। বিআরটিএ মাঝেমধ্যে বিপুলসংখ্যক চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানালেও চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার সময় বাস্তব সড়ক পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা যাচাই করতে হবে। চালককে সড়কে নামানোর আগে তার দক্ষতা পরীক্ষা করা জরুরি। শুধু প্রতিষ্ঠানের ভেতরে জিগজ্যাগ করে গাড়ি চালানো বা সাইন দেখে চলার পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাস্তব সড়কের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে না। পৃথিবীর কোথাও এভাবে চালকের দক্ষতা যাচাই করে সনদ দেওয়া হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শামসুল হক বলেন, এসব সংস্কারের জন্য সব ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন নেই। বিআরটিএকে পেশাদার হতে হবে। পুলিশকে সারা বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে, মৌসুমি ভিত্তিতে কাজ করলে চলবে না। অর্থের সংকট থাকলেও এসব সমস্যা সমাধানে সব সময় অর্থ প্রয়োজন হয় না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিআরটিএ ঠিকমতো যানবাহনের ফিটনেস সনদ দিতে পারছে না, বাসের রুট পারমিটও যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। একই করিডরে একাধিক পরিবহন পরিচালনাকারীকে কেন অনুমতি দেওয়া হলো, সে প্রশ্নও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি না বুঝলে তাঁদের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই সংস্কার করতে হবে এবং সড়ক নিরাপত্তায় সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে।

শামসুল হক আরও বলেন, সরকারকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেসব দপ্তরের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোকে সক্ষম করে তুলতে হবে। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন লোক নিয়োগ করে জবাবদিহির মাধ্যমে কাজ আদায় করতে হবে। এ দায়িত্ব সরকারকেই পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আহাজারি করে উন্নয়ন হয় না। বিভিন্ন দেশে পেশাদার ব্যক্তিরা দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজ করেন এবং কী ঘটতে পারে, তা আগেই অনুমান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। বাংলাদেশে আগে ঘটনা ঘটতে দেওয়া হয়, পরে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এভাবে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়।