বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় বিআইপি

বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গভীর বিস্ময় ও দুঃখের সঙ্গে বিআইপি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছে যে, সরকার বিআরটি প্রকল্প বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, বিআরটির সম্পূর্ণ অবকাঠামোকে একটি ৩+৩ লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার বিআরটি নিয়ে সর্বশেষ ও সবচেয়ে খারাপ বিকল্পটিই বেছে নিয়েছে। বৈঠক-পরবর্তী নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়েও সিদ্ধান্তটি জানানো হয়নি। এতে এমন জল্পনার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে যে, সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের একটি অংশ কিছু একটা গোপন করার চেষ্টা করছেন। আমরা এই সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সুস্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাত দেখতে পাচ্ছি।

বিআইপি এই সিদ্ধান্তের দ্ব্যর্থহীন প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং একে টেকসই, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহনের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন; হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টতই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারী এবং দেশসহ বিশ্বব্যাপী সক্রিয় নির্মাণ লবির পক্ষে গেছে। সিদ্ধান্তটি গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান (জিটিএমপি) এবং ঢাকার জন্য প্রণীত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি)-এর প্রস্তাবনার পরিপন্থী। একইসঙ্গে, গত ১৪ বছর ধরে প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে দুর্ভোগ পোহানো গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা ও চলাচলের চাহিদার প্রতিও এই সিদ্ধান্ত সুবিচার করে না।

বিআইপি দাবিগুলো হলো

১. বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা;

২. বিআরটি ও এমআরটির পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত সংস্থা গঠন করা;

৩. সমগ্র ঢাকা শহর এবং দেশের অন্যান্য মহানগরের জন্য বিআরটির একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা;

৪. পরিবহন অবকাঠামো বিষয়ে প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণের চর্চা বন্ধ করে পরিকল্পনাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা;

৫. বাস্তবায়নকালে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করে এবং নারী, স্বল্প দূরত্বের যাত্রী, শারীরিক প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও সীমিত সামর্থ্যের মানুষসহ অধিক সংখ্যক মানুষকে সেবা দেয়, এমন পরিবহন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া;

৬. বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের যেকোনও পরিবহন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-কে নেতৃত্বদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং সংস্থাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করা।