বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন, কলা ভবন, সমাজবিজ্ঞান ভবন, প্রশাসনিক ভবন এবং নতুন ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঘুরে শেষে ভাস্কর্য চত্বরে সমাবেশে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে কয়েকজন ছাত্রীকে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার হুমকি ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষক রাজীব মীরসহ আরও দুই শিক্ষককে মাস্টার্স শ্রেণির একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই মধ্যে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ তদন্ত কমিটি দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছে। তবে তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত কোনও কথা বলতে রাজি হননি। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজীব মীরের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি করে কর্মসূচি দিয়েছেন।
সমাবেশে ছাত্রফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশে যখন তনু হত্যাকান্ডসহ নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে, তখন সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হুমকি ও অনৈতিক প্রস্তাবের মত ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। মুক্ত জ্ঞান চর্চার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকের নৈতিক স্খলন আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে এইচএসসি’র জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস!
তারা আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক রাজীব মীর ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা তার বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ করেছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এসেছিলো। একের পর এক তিনি এভাবে কুকর্ম করে যাচ্ছেন। ফলে আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কারসহ আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি করছি।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও কিছু শিক্ষকের নামে ছাত্রী লাঞ্ছনার অভিযোগ এসেছে। প্রশাসন তাদের প্রতি নমনীয় মনোভাব পোষণ করেছে। একটা অন্যায় নির্বিঘ্নে ঘটলে আরেকটা অন্যায়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে। শিক্ষকদের এ ধরণের অপরাধ আমরা মেনে নিতে পারিনা, মানবোনা।
জবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মেহরাব আজাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার প্রমুখ।
/আরএআর/ এপিএইচ/