সাতক্ষীরার প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের এবং তাকে ঘিরে হয়রানি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়েছে। শম্পা গোস্বামীর অভিযোগ, তার বাসভবন ও সংগঠনের কার্যালয়ে পুলিশের নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এইচআরএফবি মনে করে, এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে নাগরিকের অবাধ চলাফেরার অধিকার এবং ৪৩ অনুচ্ছেদে গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কোনও ব্যক্তির বাসভবন ও কার্যালয়ে নজরদারি এবং তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
এইচআরএফবি আরও মনে করে, মানবাধিকার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা অপরিহার্য।
এইচআরএফবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির আইনগত ভিত্তি ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সেইসঙ্গে শম্পা গোস্বামীর আনীত অভিযোগের বিষয়ে নিরেপক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকার কর্মী হিসেবে শম্পা গোস্বামীর শান্তিপূর্ণ ও বৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণও অন্তর্ভুক্ত; এবং এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি, তার পরিবার ও নারী উন্নয়ন সংগঠনের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের যেন কোনও ধরনের ভয়ভীতি, হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শিকার না হন, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এইচআরএফবি।