রাত ৯.৩০। শ্যামলীর শিশুমেলা থেকে আগারগাঁও পথে এসে পর্যটন কর্পোরেশনের ভবনের উল্টোদিকের রাস্তা বন্ধ দেখা যায়। ঝকঝকে বড় রাস্তায় শ’খানেক মানুষ দলে দলে ভাগ হয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। বন্ধ রাস্তায় শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের লকডাউন কাঁটাতার দেওয়া। বড় করে লেখা আছে ‘লকডাউন’। অথচ রাস্তাটিতে মানুষ নিজেদের মধ্য আড্ডা দিচ্ছেন। এমনকি দুটি চায়ের দোকানও খোলা দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট থানা স্বীকার করেছে, আগারগাঁও তালতলা এলাকার লোকজনদের যত্রতত্র থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
কেবল আগারগাঁও নয়, বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে, ধানমন্ডি আবাসিকের ভেতরে, আসাদগেট নিউ কলোনির আশপাশে এবং সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমিত এলাকা আদাবরের রাস্তায় রাস্তায় চলছে ইফতারের পর অযথা আড্ডাবাজি।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ কাজ ও চলাচলে কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বিধি-নিষেধের ৬ নম্বর অংশে বলা আছে, ‘অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মরদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড দেখানো সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।’
আড্ডারত সাত বন্ধুর কাছে বাইরে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ইফতারের পর আড্ডা আমাদের পুরনো রেওয়াজ। এখানে পরিবেশ ভাল। এছাড়া চায়ের দোকানও আছে, তাই বসা। দিনে শতাধিক মানুষ মারা গেছে, এখনও মাস্ক ছাড়া বাইরে আড্ডা দেওয়া যৌক্তিক কিনা প্রশ্নে তাদের একজন বিরক্ত হয়ে প্রতিবেদককে চলে যেতে বলেন।
এদিকে কঠোর বিধি-নিষেধের ১০ নম্বরে বলা আছে, ‘সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।’ অথচ ওই রাস্তা থেকে থানা পাঁচ মিনিটের পথ।
তাহলে পুলিশ আসলে কী ব্যবস্থা নিলো যে মানুষ তাদের সামনে বাইরে আসছে, আড্ডা দিচ্ছে জানতে চাইলে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানে আলম মুন্সি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লকডাউনকে কেন্দ্র করে থানা এলাকায় পেট্রোলিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর যেসব দোকানপাট খোলা পাওয়া যায় সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপরও অনেকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের ঝাঁপ কিংবা শাটার বন্ধ করে দেয়। পুলিশ চলে গেলে ফের দোকান খুলে। একপ্রকার চোর-পুলিশ খেলা শুরু করে। তারপরও আমাদের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার হয়েছে। আগারগাঁও তালতলা এলাকায় লোকজনদের যত্রতত্র বাইরে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটাই দুরূহ হয়ে পড়েছে।’