লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। কর্ম হারিয়ে এদের অনেকেই রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। যারা আছেন তাদের অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে জীবিকার খোঁজে। এসব কর্মহীন মানুষের জন্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই সহায়তার টাকা পেতে কাউন্সিলর কার্যালয়গুলোতে ধরনা দিচ্ছেন তারা। কিন্তু সরকারের সেই বরাদ্দ না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কাউন্সিলররা। সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে অনেকেই নিজ থেকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
গত ২৫ এপ্রিল দুর্যোগ ও ত্রাণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে কর্মহীন মানুষের মানবিক সহায়তায় সরকার এ পর্যন্ত ৫৭৪ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সব সিটি করপোরেশনের অনুকূলে শিশুখাদ্য কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বড় সিটি করপোরেশনগুলোকে ৫৭ লাখ টাকা করে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সোমবার (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এখনও সেই অর্থ পায়নি।
সোমবার ডিএসসিসির ৫ নং ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকা থেকে কাউন্সিলর কার্যালয়ে খাদ্য সহায়তার জন্য এসেছেন নাছিমা আক্তার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার স্বামী আগে একটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি চালাতো। ৫ সদস্যের পুরো পরিবার চলতো। এই লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকায় কোনও উপার্জন নেই। জমানো যে টাকা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। সরকার তো বলেছে কর্মহীন মানুষের জন্য বরাদ্দ দিবে। সে কারণে কাউন্সিলরের কাছে এসেছি।
জানতে চাইলে ডিএসসিসির ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিদিন মানুষ আমাদের কাছে সহায়তার জন্য আসে। আমরা এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সহায়তা পাইনি। তবে আমি নিজ থেকে প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ২০০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট দিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, লকডাউনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কর্মহীন মানুষের আড়াই হাজার টাকা করে যে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সেটা হয়তো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ অর্থ পায়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাসির উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সিটি করপোরেশনের বাইরে কোনও বরাদ্দ পাইনি। আমাদের মেয়র ২২৫ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দিয়েছেন, আমরা সেগুলো বিতরণ করেছি। এছাড়া এমপি সাহেবও কিছু ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। এর বাহিরে সরকারি কোনও বরাদ্দ আমরা এখনও পাইনি। লকডাউনের শুরুর পর্যায়ের চেয়ে এখন সাহায্য প্রত্যাশী মানুষের ভিড় অনেক বেশি।
ডিএসসিসির ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, সিটি করপোরেশনের কাছে কতো যে তালিকা দিয়েছি তার কোনও হিসাব নেই। আমরা এখন পর্যন্ত কোনও বরাদ্দ পাইনি। প্রতিদিন শতশত মানুষ কাউন্সিলর কার্যালয়ে এসে ভিড় জমায়। তবে থেমে থাকিনি। নিজের পকেট থেকে মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি।
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে সেই অর্থ ডিসি অফিস হয়ে আমাদের কাছে আসবে। আমরা আশা করছি কাল বা পরশুর মধ্যে পেয়ে যাবো। তবে শিশু খাদ্যের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আমরা সেটা পেয়েছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাউন্সিলরদের কাছে মানুষ সহায়তা চাচ্ছে। তারাও নিজ থেকে অনেক কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। আবার অনেকেই করোনার সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করছেন। আমরা প্রস্তুতি নিতে বলেছি।
অপরদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে তার চিঠি আমরা পেয়েছি। আশা করছি পুরো বরাদ্দটা আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে পেয়ে যাবো। আমরা কর্মহীন মানুষের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের জন্য অপেক্ষা থাকিনি। আমাদের মেয়র ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রত্যেক কাউন্সিলরকে প্রথমে এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। আজ দরিদ্রদের মাঝে শাড়ি বিতরণের জন্য আরও এক লাখ ৭৫ হাজার করে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রত্যেক কাউন্সিলরের অনুকূলে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।