লকডাউনে সকল ধরনের বার ও ক্লাব বন্ধ থাকবে। ঢাকা ক্লাব হোক আর অফিসারর্স ক্লাব‑ সব বন্ধ থাকবে। অলি-গলিতে থাকা দোকান বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এমন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানও করা যাবে না।
বুধবার (৩০ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, "যারা বাইরে বের হবেন তাদেরকে মাস্ক এবং আইডি কার্ড নিয়ে বের হতে হবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যারা আসবেন তাদের বহনের জন্য গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। তবে আগত যাত্রীদের পরিবারকে আমরা অনুরোধ করবো আপনারা গাড়ি দিয়ে বিমান বন্দরে না গেলেও চলবে। কারণ বিমান বন্দরে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের রাস্তায় টিকিট এবং পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হবে।"
পুলিশ আইন প্রয়োগে যতটা কঠোর হবে, আপনার পরিবার-সন্তান ততটাই নিরাপদে থাকবে‑ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে আমাদেরকে ফাঁকি দিতে পারবেন, ভিডিও নিয়ে ভাইরাল করে পুলিশকে সমালোচনার মুখে ফেলতে পারবেন, তবে পরিবার ও সন্তানকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে পারবেন না।"
তিনি আরও বলেন, "অকারণে বের হলে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে, যেটি আমরা এর আগে কখনও করিনি। এবারে আমরা এই অবস্থান পর্যন্ত যাবো। এমনও হতে পারে ডিএমপি প্রথম দিন ৫ হাজার লোক গ্রেফতার করবে, এমনটাও শুনতে পারেন। এরকম পরিস্থিতি হতে পারে, আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থায় থাকবো।"
কমিশনার বলেন, "কোনও ধরনের যানবাহন আমরা চলতে দিব না, তবে সঙ্গত কারণ থাকলে বা নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারে যেতে হলে আমরা তাদেরকে রিকশা ব্যবহারের অনুরোধ করবো। অন্যান্য সব জরুরি কাজে রিকশা ব্যবহার করা যাবে। কেউ যদি মনে করেন বউ-বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে পার্কে যাওয়ার জন্য রিকশা ব্যবহার করেন, সেটা করা যাবে না।"
যেসব কাঁচাবাজার রয়েছে সেগুলোকে সামনের রাস্তার পাশে নিয়ে আসা হবে, যাতে মানুষ দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে পারেন। খাবারের হোটেলগুলো শুধুমাত্র খাবার কেনার জন্য খোলা থাকবে, কেউ বসে খেতে পারবেন না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সংবাদকর্মীরা চলাচল করতে পারবেন।