ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বর্তমানে রাজধানীর প্রায় ৪০টি মাঠ ও পার্ক আধুনিকায়নের কাজ করছে। তবে সাম্প্রতিককালে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে— যা মাঠ-পার্ক সংরক্ষণ বা উন্নয়নের পরিপন্থী। যেকোনও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে মাঠ-পার্ককে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি যে ওয়ার্ডগুলোতে মাঠ ও পার্ক নেই, সেখানে জায়গা অধিগ্রহণ করে মাঠ-পার্কের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
শিশুদের বিকাশের জন্য নগরে খেলার মাঠ,পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রবিবার (১৮ জুলাই) ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘নগরে খেলার মাঠ,পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।
সভায় হয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার আয়তন প্রায় ৩০৫ বর্গ কিলোমিটার এবং এ শহরে ২ কোটিরও বেশি লোকের বসবাস। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় মাঠ ৬টি, পার্ক ২১টি, শিশু পার্ক ৪টি ও ঈদগাহ মাঠ ৩টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পার্ক ২৮টি ও খেলার মাঠ ১২টি। যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। রাজউকের জরিপ থেকে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৭টিতে কোনও খেলার মাঠ কিংবা পার্ক নেই। এতে শিশুদের, বিশেষত মেয়ে শিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা নাঈমা আকতার। তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৭টিতেই নেই কোনও খেলার মাঠ বা পার্ক। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত খেলার মাঠটি জরাজীর্ণভাবে পড়ে আছে দীর্ঘদিন যাবৎ। পার্ক ও খেলার মাঠে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র মানুষসহ সকলের প্রবেশগম্যতা অবশ্যই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সামাজিকীকরণের সুযোগ তৈরির জন্য এলাকাভিত্তিক পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত স্থানসগুলো চিহ্নিত করে, সেগুলো সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে সামাজিকীকরণের স্থানে পরিণত করা যেতে পারে।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এর সাধারণ সম্পাদক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘নগরবাসীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লক আকারে মাঠ-পার্ক তৈরি করা যেতে পারে। পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়নকালে অনেক সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে বাণিজ্যিক অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
ভূমিজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ফারহানা রশীদ তনু বলেন, ‘মাঠ-পার্ক এর অবকাঠামো উন্নয়নের আগে ব্যবস্থাপনার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম বলেন, ‘নগরে বৃহৎ আকারে পাবলিক স্পেসের বিষয়ে আমরাও চিন্তা করছি। তবে সে ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়নে সকল প্রতিবন্ধী মানুয়ের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পার্ক ও খেলার মাঠ তদারকিতে আমরা আইসিটির সহায়তায় নিতে পারি। আমাদের মাঠ, পার্কগুলো ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে। এগুলো সমাধানে আমরা কাজ করছি। ডিএনসিসি মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্তস্থান সংরক্ষণে কাজ করছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএসসিসি’র আওতাধীন সকল মাঠ, পার্ক সকলের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের মাঠ, পার্ক শুধু দুই সিটি করপোরেশনেরই নয়, এখানে গণপূর্ত, রাজউকেরও কিছু মাঠ, পার্ক রয়েছে। শহরে সকল খেলার মাঠ, পার্কগুলোকে তালিকাভুক্ত করে একটি ম্যাপিং করা হচ্ছে। যে সকল ওয়ার্ডে মাঠ, পার্ক নেই, সেগুলো চিহিৃত করা যেতে পারে। নগরবাসীর শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মাঠ, পার্ক এর বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী-অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সকলের কথা মাথায় রেখে নগর উন্নয়নের চিন্তা করতে হবে। উন্মুক্তস্থানগুলো নারীরা যাতে ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে। নগরের যে সকল স্থানে মাঠ ও পার্ক নেই, সেখানে কীভাবে মাঠ ও পার্ক তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে করপোরেশনকে উদ্যোগী হতে হবে।’