ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান ডিএসসিসি মেয়রের

চিরুনি অভিযানে এডিস নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। পাশাপাশি তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।   

বুধবার (৪ আগস্ট) সকালে খিলগাঁওয়ের পিডব্লিউডি কলোনিতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ কথা বলেন।

তাপস বলেন, ‘আমাদের এলাকায় যে সরকারি আবাসনগুলো আছে, আমরা তাদেরকে বারবার চিঠি দিয়েছি, সতর্ক করেছি। আমরা বলেছি, যেন তারা সেগুলো পরিষ্কার করেন। আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আজকেও আমি পরিদর্শনে এসে দেখলাম, এখানে লার্ভা পাওয়া গেছে। এটি আসলে খুবই দুঃখজনক। আমরা যদি নিজেরা নিজেদের এলাকা পরিষ্কার-পরিছন্ন না রাখি, উৎসগুলো নিধন না করি, কোনও আধারে যেন পানি না জমতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন না হন, তবে এটা (ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ) অত্যন্ত দুরূহ। তারপরও আমরা কাজ করে চলেছি। আমরা আশাবাদী, এই চিরুনি অভিযানের ফলে এডিস মশার বিস্তার আমরা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবো। কিন্তু কাজটি অত্যন্ত দুরূহ, তারপরও আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’   

যেখানেই সরকারি আবাসন সেখানেই নোংরা, অপরিচ্ছন্নতা দৃশ্যমান, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে  মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এখন কঠোর হচ্ছি, জরিমানা করছি। তারপরও আমরা দায়িত্বহীনতা ও  উদাসীনতা লক্ষ্য করছি। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।  যদি সবাই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করি, তাহলে এটার বিস্তার এতদূর হতে পারে না। এখন ঘরে ঘরে যাচ্ছি।’

জনগণ সচেতন না হলে ১ কোটি ২০ লাখ জনবসতির এই শহরে এডিস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও দুরূহ উল্লেখ করে ডিএসসিসির বলেন, ‘তারপরও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে যদি ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তাহলে সকলের দায়িত্বশীলতা-সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।’

এর আগে মেয়র টিটিপাড়া পাম্প স্টেশন সংলগ্ন মান্ডা খালে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে মশক নিয়ন্ত্রণ, সেগুনবাগিচা ও ইস্কাটন গার্ডেন রোডে নর্দমা পরিষ্কারকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।