স্ত্রী মুক্তা রাজধানীর বিভিন্ন অফিস রেকি (আগে খোঁজ-খবর নেওয়া) করে, এরপর তার স্বামী ওই অফিসে চুরি করতো। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ ওই চক্রের ৭ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
গত ১১ জুলাই রাজধানীর উত্তরা প্যারাডাইস টাওয়ারের গোল্ডেন টাচ ইম্পোর্টস আইএনসি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়। মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি।
চুরির সঙ্গে জড়িত সাত সদস্যকে গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উত্তরা জোনাল টিম গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতররা হলো – মো. জামাল উদ্দিন, শফিক ভূঁইয়া ওরফে বাছা, জসিম উদ্দীন, কাদের কিবরিয়া ওরফে বাবু, মো. শাকিল, আলামিন ও মুক্তা আক্তার।
গত ২০ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে রাজধানীর ডেমরা ও কুমিল্লা জেলার কান্দিরপাড় এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হাতুড়ি, লোহার রেঞ্জ, ব্লেড, প্লায়ার্স, স্ক্রু ড্রাইভার, ২০টি সীম কার্ডসহ চুরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এদের মধ্যে শফিক ভূঁইয়া ওরফে বাছার স্ত্রী মুক্তা আক্তার। মুক্তা বিভিন্ন অফিস ও ভবনের নিরাপত্তা রেকি করত বলেও জানান যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি বলেন, "চুরি করা জিনিসপত্রও মুক্তার কাছে রাখা হতো।"
মাবুব আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সুউচ্চ টাওয়ারে অবস্থিত বিভিন্ন নামিদামি অফিসে চুরি করার জন্য টার্গেট করে। এই চোরচক্রের সদস্যরা প্রথমে টার্গেটকৃত অফিসকে ২-৩ দিনব্যাপী রেকি করার মাধ্যমে চুরির কৌশল রপ্ত করে। যেসব ভবনে চক্রের পুরুষ সদস্যরা যেতে পারে না সেখানে মুক্তাকে পাঠানো হয়, সে রেকি করে। তারপর তার দেওয়া তথ্যের ওপর চুরির পরিকল্পনা করে চক্রটি। অফিসের তালা, সিকিউরিটি লক, ডিজিটাল লক ও অফিস কক্ষের ড্রয়ার ভেঙ্গে মূল্যবান মালামাল ও টাকা-পয়সা চুরি করে কৌশলে বের হয়ে চলে যায় তারা।
এছাড়াও গ্রেফতারকৃতরা আদাবর টাওয়ারের ৪র্থ তলার এক্সপার্ট গ্রুপে, কাকরাইল নাসির উদ্দিন টাওয়ারের ১০ তলায় আমিন গ্রুপে, গুলশান জব্বার টাওয়ারের ১৯ তলায় এসিউর গ্রুপে, বাড্ডা রূপায়ন টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত সফটলিংক কোম্পানিতে ও ৭ম তলায় অবস্থিত এক্সজিবল কোম্পানির অফিসে চুরি করার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলগুলোর সংগৃহীত সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়। চোরচক্রটি চট্টগ্রামেও অন্তত দশটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।
গ্রেফতার জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ১০টি এবং ঢাকায় ৪টি মামলা রয়েছে।