জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

‘আমরা কন্যাশিশু - প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবো, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব’ - প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে রাজধানীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সকাল পৌনে দশটায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুদের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর মধ্যে যে অপরিমেয় সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের বিকশিত করতে পারলে তারা অপার সম্পদে পরিণত হবে। বর্তমানে সাফল্যের দিক দিয়ে ছেলেশিশুদের চেয়ে কন্যাশিশুরা এগিয়ে।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কন্যাশিশুদের উপস্থিতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। এটা আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আজকের সমাজে কন্যাদায় শব্দটি একদমই বেমানান। এই করোনাকালে অনেক কন্যাশিশুকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ ঠেকাতে অনেকে প্রতিবাদ করেছেন, তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই।

জাতীয় শিশু একাডেমির পরিচালক লাকী ইনাম বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আমাদের কন্যাশিশুরা আগামীর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বে, তাই তাদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া উচিত। কন্যাশিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হয় পরিবার ও সমাজকে। কন্যাশিশুদের অধিকারের বিষয়ে আমরা যেন সর্বদা সচেতন থাকি।’

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সদস্য সংগঠন অপারাজেয় বাংলাদেশের মনোয়ারা আক্তার তানহা বলেন, ‘একজন কন্যাশিশু হিসেবে আমি গর্ববোধ করছি। পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে আমার পড়া লেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা হলে অপারাজেয় বাংলাদেশের সাহায্যে আমার পড়া লেখা চালিয়ে যাই। বর্তমানে অপারাজেয় বাংলাদেশের শিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। একটা কথা বলতে চাই - আমরা নারী, আমরা পারি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহ-সম্পাদিকা রাবেয়া বেগম।

কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ‘কন্যাশিশু জার্নাল’  ও পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন করেন মো. সায়েদুল ইসলাম।  আলোচনা সভা শেষে নাচ ও গান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানানো হয়।