গান-কবিতায় মেঘদলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি

গান-কবিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মেঘদলের সাত সদস্যদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ‘সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন’।

বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর)  বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

সমাবেশে সংগঠনের নেতারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, বাউল শিল্পী রিতা দেওয়ান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জিয়া রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কে এম মুত্তাকি বলেন, ‘এই আইন তৈরি করা হয়েছে মানুষের কথা বলার অধিকারকে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানুষের কথা বলার অধিকারকে আরও বেশি সংক্ষিপ্ত করার জন্য। আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।  এই আইনের মাধ্যমে আমরা দেখলাম মেঘদলের বিরুদ্ধে একজন আইনজীবী মামলা করলেন। মামলার এজাহারে তিনি স্পষ্ট করতে পারলেন না, তিনি কীভাবে অফেন্ডেড ফিল করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘২০১৩ থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনগণ তাদের মত প্রকাশ করছে। তখন  দুই ধরনের শত্রু মত প্রকাশে বাধা প্রদান শুরু করে— সাম্প্রদায়িক শক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। মানুষের জামিনের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এই ধরনের আইন মূলত তৈরি করা হয় শুধুমাত্র যারা শাসকের বিপক্ষে যায়, যারা প্রতিবাদ করে, তাদেরকে দমন করার জন্য।’

ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক শাওন বিশ্বাস বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে মেঘদলের দেড় দশকের পুরনো ‘ওম’ গানটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। আমি মনে করি, মামলা করার মাধ্যমে মেঘদলের এই গান স্বার্থক। আমরা এই সমাবেশ থেকে মেঘদলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’

ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য প্রিজন ফকির, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর অদৃতি, আবৃত্তি শিল্পী দীপক সুমন,বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর নেত্রী অদিতি আদৃতি বিশ্বাসসহ আরও অনেকে প্রতিবাদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ সময় বাঁশি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান আদিত্য শুভ,কবিতা আবৃত্তি করেন উদীচীর শিল্পী শাকিল ইমাম উজান, দীপক সুমন, গান পরিবেশন করে গণ-সাংস্কৃতিক মৈত্রী, সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের শিশু শিল্পী মীম।