নীলক্ষেতে বইয়ের মার্কেটে আগুনের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে নিউ মার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায়। সেইসঙ্গে আগের দিন একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির কারণে নীলক্ষেত মার্কেট বন্ধ ছিল। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর ওই মার্কেটে আগুন লাগে। রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বন্ধের মাঝে কীভাবে মার্কেটের বইয়ের দোকানে আগুন লেগেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আজ  সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। তারপরও জানতে পেরেছি দুই-একটি দোকান খোলা ছিল। তবে আগুনের  সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে— এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।’

আগুন নেভাতে ব্যস্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাএদিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক অপারেশন্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেটের দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সোমবার একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল আজ  সাপ্তাহিক বন্ধ। ছুটির মধ্যে যারা দোতালায় দোকানের কাজ করছিল, তারা ইলেকট্রিক লাইন অন করে চলে যায়। সেখান থেকেই কারণেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আগুনের কারণে দোতালায় থাকা ৩০ থেকে ৩৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিচ তলায় আগুন সেভাবে ছড়াতে পারেনি। নিচে আগুনের  প্রভাব কম ছিল। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।’

নীলক্ষেত বইয়ের মার্কেটে আগুনফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তার দাবি, নীলক্ষেত বই মার্কেটের লাভলী হোটেল (দোতলায়) থেকে আগুন ছড়ানোরি সশ্বাবনা রয়েছে।। তবে আগুনের উৎপত্তিস্থল এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধের পরেও বইমেলা চলার কারণে নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেটে বেশ কয়েকটি দোকান খোলা ছিল।  একটি দোকানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের অনেকে ধারণা করছেন। বেশকিছু দোকান পুড়ে গেছে। সেইসঙ্গে দোকানে থাকা বইও পুড়েছে। যাদের দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ঘটনাস্থলে তাদেরকে আহাজারি করতে দেখা গেছে। যদিও ক্ষতিগ্রস্তরা প্রাথমিকভাবে তাদের ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানাতে পারেনি।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন