‘বাবা আমার সব শেষ, এই ক্ষতি কীভাবে পোষাবো?’

‘বাবা আমার সবই শেষ, ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারলাম না, কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো’, এসব বলে আহাজারি করছিলেন কল্যাণপুর পুড়ে যাওয়া বস্তির বাসিন্দা জামেনা আক্তার। মিরপুর ১ নম্বরে একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন তিনি। সেখানে থাকতেই কল্যাণপুর নতুন বাজার বেলতলা বস্তিতে আগুন লাগার খবর পান। তিনি বলেন, ‘এসে দেখতে পেয়েছি চোখের সামনে ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে’।

আগুন লাগার পর রবিবার ২০ মার্চ রাতে রাজধানীর কল্যাণপুর বস্তি এলাকায় দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষের আহাজারি। আগুনে পুড়ে যায় প্রায় চারশ’র মতো কাঁচা পাকা ঘর। ঘর থেকে কিছু বের করতে না পারায় শুধুমাত্র নিজের জান এবং কিছু কাপড় নিয়ে বের হতে পেরেছেন অনেকেই। আবার অনেকেই ঘরের কিছু জিনিসপত্র বের করতে পারেন। আবার অনেকেই দেখেছেন নিজের থাকার ঘরটি চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে ছাই হতে। বারবার এভাবে আগুনে পুড়েছে তাদের থাকার ঘরগুলো- এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

পুড়ে যাওয়া বস্তি

বস্তির বাসিন্দা সালমা বলেন, ‘আমার সন্তান অসুস্থ, আমি ঘরের মধ্যে ছিলাম। হঠাৎ লোকজনের চিল্লাচিল্লিতে বাইরে বেরিয়ে এসে বস্তির একপাশে আগুন দেখতে পাই। পরবর্তীতে নিমিশেই আগুন আমাদের দিকে আসতে থাকে। আমি শুধু আমার অসুস্থ বাচ্চাকে এবং কয়েকটা কাপড়-চোপড় নিয়ে বাইরে আসতে পেরেছি। আমরা বাইরে এসে আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছি কিন্তু থাকার ঘরটি আর আগুন থেকে রক্ষা পায়নি। সবকিছুই তো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। থাকতে হবে খোলা আকাশের নিচে’।

সাইফুল মিয়া বলছিলেন, ‘এর আগেও এখানে আগুন লেগেছিল এবং আমার ঘরটি পুড়ে গিয়েছিল। কষ্ট করে টাকা পয়সা মিলিয়ে ঠিকঠাক করেছিলাম আবার আগুনে পুড়ে গেল। আমরা দিন আনি দিন খাই। এ ক্ষতি কিভাবে পোষাবো আর টাকায় কোথা থেকে পাবো?’

চার মেয়ে এবং দুই ছেলে নিয়ে বস্তির একটি রুমে থাকতেন সোলেমা খাতুন। আগুনে ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় এখন কিভাবে কি করবেন দিশেহারা হয়ে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছিলেন। আহাজারি করছিলেন সবকিছু পুড়ে যাওয়ায়। কোন কিছু বের করতে পারেননি- এই কথা মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আহাজারি যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘আগুনের এতই তীব্রতা ছিল কিছু বের করতে পারিনি। শুধু সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিছুই করতে পারিনি’।

জসিম বলছিলেন, ‘আমি রুমে ঢুকবো ঠিক সেই সময়ই বস্তির একপাশ থেকে শুধু একটি শব্দ শুনলাম। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি পাশে আগুন। তারপর রুম থেকে শুধুমাত্র কাপড়-চোপড় নিয়ে বের হয়ে বাইরে রেখে আবার ভেতরে ঢোকার সুযোগ পাইনি। এর মধ্যেই আগুন আমার রুমে ছড়িয়ে পড়ে। এখন কি আর করব সারারাত বাইরে কাটাতে হবে’।

ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ বস্তিতে এর আগেও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ বস্তিতে আগুন লাগার পেছনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইনকে দায়ী করেন। তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকরী ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।