‘রাত ১২টার পরও ওষুধের দরকার পড়তে পারে, কোথায় মিলবে’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাত ১২টার মধ্যে সাধারণ ওষুধের দোকান ও রাত ২টার মধ্যে হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত নিজস্ব ওষুধের দোকান বন্ধের নির্দেশনা জারি করে সোমবার (২২ আগস্ট) গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তবে সাধারণ নাগরিক ও বিশিষ্টজনেরা ইতোমধ্যেই নির্দেশনাটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, ঢাকা শহর পরিচালনায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জরুরি ওষুধ কেনাকাটায় কড়াকড়ি আরোপ করলে জনভোগান্তি সৃষ্টি হবে।রাত ১২টার পরও ওষুধের দরকার পড়তে পারে, জরুরি মুহূর্তে ওষুধ মিলবে কোথায়?

ডিএসসিসি'র গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই এলাকার সকল দোকানপাট, শপিং মল, মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ করার শেষ সময় রাত ৮টা। কাঁচাবাজার, ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা বন্ধ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যে। এই এলাকার সব ধরনের রেস্তোরাঁ ও খাবার দোকানের রান্নাঘর বন্ধ হবে রাত ১০টার মধ্যে। তবে খাবার সরবরাহ করা যাবে ১১টা পর্যন্ত।

ওষুধের দোকান বন্ধের বিষয়ে রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা মোকবুল হোসেন বলেন, 'অনেক সময় রাত ১২টার পরও ওষুধের দরকার পড়ে। বিশেষ করে যাদের বাসায় শিশু ও বয়স্ক রয়েছে তাদের অনেকসময় ১২টার পরেও ওষুধের দরকার পড়তে পারে, সেক্ষেত্রে কোথায় মিলবে? এ নিয়ম বেশিদিন টিকবে না বলে আমার বিশ্বাস।'

তিনি বলেন, খাবারের দোকান বন্ধ করা হলেও ওষুধের দোকান খোলা উচিত। খাবার আপনি পরে খেলেও বড় ক্ষতি হবে না কিন্তু ওষুধ অতীব জরুরি। তাছাড়া, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাত দুইটার পরও রোগী আসে তাদেরও তো ওষুধ প্রয়োজন হয়।'

নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'রাজধানীতে সব এলাকায় রাত বারোটার পরে ওষুধের দোকান খোলা থাকে না। এলাকাভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে কিছু দোকান খোলা রাখা হয়। এগুলো বন্ধে কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এটা আমার জানা নেই। একটা দুর্ঘটনা রাত ১২টার পরেও ঘটতে পারে সেক্ষেত্রে দোকান বন্ধ থাকলে ওষুধ কোথায় পাবে।'

উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সব দেশে গুরুত্বপূর্ণ সেবা যেমন- ওষুধ, সীমিত আকারে সারারাতই খোলা থাকে'।

তিনি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

নাগরিক আন্দোলন ও পরিবেশকর্মী স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, যেগুলো জরুরি সেবা সেগুলো ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকার কথা, এমনকি কারফিউয়ের মধ্যেও খোলা থাকে। যদি কোনও কারণে অবিবেচনাপ্রসূত এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে- যখন জরুরি অবস্থা ঘড়ি ধরে হয় তখন। কোনও সময় ধরে 'জরুরি' নির্ধারিত হয় না, ওষুধের দোকান বন্ধের সিন্ধান্ত যদি সত্যি হয়ে থাকে তা হবে জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পথ্য বিষয়গুলো জরুরি কার্যক্রম হিসেবে স্বীকৃত। এগুলো ঘড়ি ধরে হয় না। এগুলোর ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল মানেই জরুরি সেবা। এখানে যেকোনও রোগীর জরুরি প্রয়োজন হতে পারে। জরুরি ওষুধ সরবরাহের জায়গাটা বন্ধ করা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক। যুদ্ধের সময়ও হাসপাতাল ও এ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যুদ্ধের বাইরে থাকে। '

তিনি আরও বলেন, 'হাসপাতাল সংলগ্ন ফার্মেসি রাত দুইটার পরে বন্ধ- এটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নয়। কারণ ২৪ ঘণ্টার যেকোনও সময় জরুরি রোগী বাইরে থেকে আসতে পারে আবার হাসপাতালের যেকোনও রোগীর জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ পূর্বনির্ধারিত করে রাখা সম্ভব নয়।'

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির বলেন, আমার মনে হয় রাত ১২টার পরে ওষুধ খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। মানুষ সাধারণত ১২টার আগেই তা কিনে থাকে। কিছু কিছু জরুরি ব্যাপার আমরা বিবেচনা করবো। ঢাকা শহরে কিছু ফার্মেসি ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। এটা তো জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার।'

তিনি আরও বলেন, 'বিজ্ঞপ্তিতে ইন জেনারেল লেখা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে আমরা বিবেচনা করবো।'

আরও পড়ুন: