সংবাদমাধ্যমে নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন, পেশাদার সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন করাসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের মালিকরা সাংবাদিকদের ওপর নিষ্পেষণ-নির্যাতন চালাচ্ছেন।
শনিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডিইউজে’র এই সমাবেশ হয়। সেখানে ডিইউজে সভাপতি বলেন, ‘একদিকে রাষ্ট্রীয় যে বেতন কাঠামো আছে সেটা নিয়ে সমস্যা। তার ওপর মালিকদের অত্যাচার, নিষ্পেষণ আর নির্যাতন! এই অবস্থায় আমরা রাজপথে নেমে এসেছি।'
সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আজ চারদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ভাইয়েরা কষ্টে আছেন। সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের কোনও বেতন কাঠামো নেই। প্রিন্ট পত্রিকায় যতটুকু আছে, অনলাইন বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সেটিও নেই। আমরা বারবার সেকথা বলে আসছি।’
সচিবালয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে আমাদের হয়রানি চলছে। কার্ড কমিয়ে ফেলার একটা চক্রান্ত চলছে। কমিয়ে ফেলার একটা প্রক্রিয়া চলছে।'
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের ওপর একধরনের খড়্গ হিসেবে কাজ করছে জানিয়ে সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘যখনই একটা ফেসবুকে স্টাটাস দেওয়া হয়, একটা সংবাদ প্রকাশ করা হয় তখন বিভিন্ন মহল থেকে মামলা করে দেওয়া হয়। আমাদের ওপর হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা সেগুলো বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিন্তু কিছুই করা হয়নি। তাই আমরা আজ মাঠে নেমে এসেছি।’
২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে ডিইউজের সভাপতি বলেন, 'সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে ডেটা সুরক্ষার জন্য এটা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে বলা হয়নি সাংবাদিকরা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সংবাদ প্রকাশে কোনও ধরনের বাধা বা হয়রানির শিকার হবে না।'
তিনি বলেন, ‘ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন মনে করে আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদের এখন আন্দোলনের সময়। আমরা জাতির পিতার আদর্শে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আর পারা যায় না। আমরা অনেক কথা বলেছি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। কিন্তু আমরা কোনও সমাধান পাইনি।’
সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘চার বছর পর যেখানে দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন হবে সেখানে আমরা নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমাদের এখন সচিবালয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ করা হচ্ছে। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখানে আমলাদের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়ে আছে। তারা চাচ্ছে সচিবালয়ে সাংবাদিক না ঢুকুক।’
তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে আমরা কাজ করি এটা কিছু আমলা চান না। উনারা বাধা দিতে চান। আগে একটা টপ গ্রেডের পত্রিকার ২৫টা কার্ড দিতো, তাদের এখন ১৫টা দেয়। আবার অনেকের দুইটার বেশি দেয় না।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ, সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, সহসভাপতি মানিক লাল ঘোষ, দফতর সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, আশরাফুল ইসলাম, তপন কুমার বিশ্বাস, মিজানুর রহমান, বায়েজিদ মুন্সি, মুনসুর হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, শিবলী নোমানীসহ প্রমুখ।