বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, কিছুদিন আগে দুই জঙ্গি পালিয়েছে। তারা কেন পালিয়েছে সেটা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি না।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বড়দিন (ক্রিসমাস ডে) উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে রাজধানীর কাকরাইল চার্চে যান তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, যেখানে, যে অবস্থায়, যে পরিস্থিতিতে, যেমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা সেটাই নিচ্ছি।
দুই জঙ্গির পলায়ন, নতুন জঙ্গির উত্থান ও রাজনৈতিক উত্তাপ এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। একটা ঘটনা ঘটেছে (দুই জঙ্গি পালানো) সে জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন আমরা সেটা নিচ্ছি। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আদালতের ফটক থেকে দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে নিজেদের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন। শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুজন জঙ্গি পালিয়েছে—এটা আমরা অস্বীকার করবো না, আমরা অবশ্যই আত্মসমালোচনায় বিশ্বাস করি। ব্যক্তিগতভাবে অবশ্যই আমার দুর্বলতা থাকলে স্বীকার করবো। এটা আমাদের ব্যর্থতা, যেহেতু এভাবে দুজন জঙ্গি চলে গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যান করে পালিয়েছে এবং আমরা এখনও তাদের ধরতে পারিনি। তবে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’
গত ২০ নভেম্বর দুপুরে পুরান ঢাকার জনাকীর্ণ আদালত থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) নেতা মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাবকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাদের সহযোগীরা। এই জঙ্গিদের খোঁজে সারা দেশে রেড এলার্ট জারি করা হয়। এছাড়া পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।