চলাচল শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল। প্রথম দিনের যাত্রী হিসেবে অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মেট্রোরেল স্টেশনে ভিড় করেন অনেকে। প্রথম দিনের যাত্রী হিসেবে আমজনতার কাতারে ছিলেন সব বয়সী নারী-পুরুষ। ছিলেন বৃদ্ধরাও। হুইল চেয়ারে করে স্টেশনে আসেন অনেকেই। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিতে উৎসাহী মানুষের সংখ্যাই ছিল বেশি।
আগারগাঁও থেকে উত্তরা যাওয়ার জন্য মেট্রোরেলের সময়ের প্রয়োজন হয় ১২ মিনিটের একটু কম বা বেশি। সেই ১২ মিনিটের অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য একেকজনকে অপেক্ষা করতে হয় ১২০ মিনিটের চেয়েও বেশি সময়।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) মেট্রোরেলের আগারগাঁও এবং উত্তরা উত্তর স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দুই প্রান্তেই ছিল যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। সকাল ৮টায় শুরু হয় মেট্রো চলাচল এবং তখনই দেওয়া হয় টিকিট। সেই টিকিট সংগ্রহের জন্য সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে যান অনেকেই। তখন থেকেই অপেক্ষার শুরু, কখন ওঠার সুযোগ হবে দেশের প্রথম মেট্রোরেলে।
প্রথম দিন মেট্রোরেল স্টেশনে সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্কাউট সদস্য ফেরদৌস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টিকিট কাটার পর পাঞ্চ করার সময় অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হন। ট্রেন থেকে বের হওয়ার সময়ও টিকিটটি কোথায় রাখতে হবে তা নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। এ সমস্যা আজ আমরা বেশি দেখতে পেয়েছি। যারা এ ধরনের সমস্যায় পড়েছেন আমরা তাদের সঠিক স্থান সম্পর্কে অবহিত করছি। তবে আজ প্রথম দিন হওয়ায় উৎসাহ নিয়েই অনেকে এসেছেন মেট্রোরেলে চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে।
মেট্রোরেলের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন, ইলেকট্রিক মেশিনের মাধ্যমে টিকিট কাটতে গিয়ে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট মেশিনে দেওয়ায় মেশিনগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। প্রথম দিনের আরও যেসব সমস্যা নজরে এসেছে কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় পর্যালোচনা করছে। টিকিট কাটার বিষয় এবং পাঞ্চিংয়ের বিষয়গুলো অভ্যস্ত করতেই আগারগাঁও এবং উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনে সহায়ক হিসেবে স্কাউট সদস্যরা কাজ করছেন।
স্বামী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষার পর বেলা ১১টার দিকে উত্তরা উত্তর মেট্রো রেল প্ল্যাটফর্মে ঢোকেন কামরুন নাহার। এ সময় তিনি বলেন, এটা তো আমাদের স্বপ্নের মেট্রোরেল। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্যই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছি সন্তানকে নিয়ে। একটু কষ্ট হয়েছে। তবে টিকিট কাটার পর মেট্রোতে উঠে সেই কষ্টকে কোনও কষ্টই মনে হচ্ছে না।
অসুস্থ, বয়স্ক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যারা হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন তাদের তিনতলা মেট্রো স্টেশনে ওঠার জন্য রাখা হয়েছে লিফটের ব্যবস্থা। লিফট ব্যবহার করে অনেক বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীকে মেট্রোতে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিতে দেখা গেছে।
শেওড়াপাড়ার ব্যবসায়ী ফিরোজ তার ৭০ বছর বয়সী বাবা আফসার উদ্দিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে আগারগাঁও থেকে উত্তরা, উত্তরা থেকে আগারগাঁও ভ্রমণ করেন। এ সময় অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ৭০ বছর বয়সী আফসার উদ্দিন বলেন, অনেক ইচ্ছে ছিল মেট্রোরেলে চড়ার। প্রথম দিনেই স্বাদ পূরণ হলো। সরকার প্রধানকে অনেক ধন্যবাদ।
ফিরোজ বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেট্রোরেলে ভ্রমণের জন্য সকাল ৬টার দিকে এসে আগারগাঁওয়ে লাইনে দাঁড়াই। এরপর সকাল ৮টায় টিকিট দেওয়া শুরু হলে সেখান থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিই। এরপর সবাই মিলে মেট্রোতে চলার স্বাদ নিই।
প্রথম দিন মেট্রো রেল চলাচলের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রথম দিন আমাদের লক্ষ্য ছিল ট্রেনের শিডিউল মেইনটেইন করা। আমরা সেটা মেইনটেইন করতে সক্ষম হয়েছি। আজ ১০টি ট্রেন চলাচল করেছে। টিকিট কাটা নিয়ে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন যাত্রীরা। সেসব বিষয় আমরা পর্যালোচনা করছি। নিয়মিত যারা ভ্রমণ করবেন তাদের চেয়ে উৎসাহী লোকজনের সংখ্যাই বেশি ছিল আজ প্রথম দিন।
তিনি বলেন, প্রথম দিনটা একটি অভ্যস্ততা তৈরির দিন ছিল। অভ্যস্ততার ভেতর যাত্রীদের চাহিদা, যাত্রীরা কীভাবে এমআরটি পাস বা সিঙ্গেল পাস ব্যবহার করবেন, এই জায়গাগুলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। কেউ একজন যাত্রী সিঙ্গেল টিকিট কাটার পর স্টেশনে দুই ঘণ্টা অবস্থান করতে পারবেন। তার বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। তাহলে তাকে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।