মাসখানেক আগেই বোনকে হারিয়েছেন মোছাদ্দেক হোসেন আশিক। বোনকে আজিমপুরে দাফনের দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাজা। সেই শোকের গায়ে এখনও পড়েনি প্রলেপ। এক শোকের মধ্যে ঘুরপাক খেতে খেতে এবার বাবার লাশ দেখতে হলো আশিককে।
রবিবার (৫ মার্চ) সকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার শিরিন ম্যানশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন জন নিহত হন। সবাই নিউ জেনারেশন লায়রা প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানা গেছে। এর মধ্যে লাশ হওয়া আব্দুল মান্নান খলিফা হলেন আশিকের বাবা।
বোনের একমাস পর বাবাকে হারিয়ে শোকের পাহাড়ের চূড়ায় বসে বিলাপ করছেন আশিক। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাবার লাশ জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘বোন রে বাবাও তোর কাছে আসছে, কাল তোর পাশেই (দাফন) দিয়ে আসবো।’
তিনটি লাশই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহতরা হলেন- নিউ জেনারেশন লায়রা প্রতিষ্ঠানের কর্মী কম্পিউটার অপারেটর শফিকুজ্জামান শেখ (৪৬), অর্ডার হওয়া মালামালের সাপ্লাই ম্যান আব্দুল মান্নান খলিফা (৬৩) ও কর্মী সাদেকুর রহমান তুষার (৩২)।
শফিকুজ্জামান শেখের বড় ভাই মহিউদ্দিন জানান, তার স্ত্রী পপি খাতুন এবং দুই সন্তান আরাফাত জামান (১১) সোয়েবাকে (৫) নিয়ে সাভারের গেন্ডা সি ব্লকে থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরে। বাবার নাম গোমেদ শেখ।
মোছাদ্দেক হোসেন আশিক জানান, তার বাবা আব্দুল মান্নান ওই প্রতিষ্ঠানের অর্ডার করা মালামালের সাপ্লাই ম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। ভাবনের তৃতীয় তলা ছিল নিউ জেনারেশন লায়রার অফিস। গাজীপুরের টঙ্গীর গাজিপুরা কাজিপাড়া কোনাপাড়া রোডে তাদের বাড়ি। বর্তমানে লালবাগ পোস্তা ইয়াসিন ব্যাপারী গলিতে পরিবার নিয়ে থাকেন। তার মায়ের নাম সাহিদা বেগম। তারা দুই ভাই এক বোনসহ ওই বাসায় থাকতেন। বোন গত একমাস আগে মারা গেছেন।
তিনি আরও জানান, মৃত তিন জনই একই প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছিলেন। ঘটনার সময় সেখানে সাত জন ছিলেন। বাকিরা পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত সাদেকুর রহমান তুষারের বড় ভাই শফিকুর রহমান জানান, নরসিংদী বেলাবো উপজেলার ভর্দশ্বর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিকের ছেলে তিনি। তারা দুই ভাইয়ের মধ্যে সাদেকুর ছোট। বর্তমানে সবুজবাগের কদমতলার বাসাবোতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। স্ত্রী জেরিন আক্তার, আদিবা নামে এক মেয়ে রয়েছে। এ ছাড়া তাদের মা নিলুফা ইয়াছমিন কিডনিজনিত সমস্যার কারণে ডায়ালাইসিসের রোগী। দুই ভাইয়ের উপার্জন দিয়ে মায়ের চিকিৎসা করাতেন।
এর আগে, রবিবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে শিরিন ম্যানশনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ভবনটির কিছু অংশ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৪ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। ভবনটির তিনতলায় ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিস থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।