ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডিএসসিসিতে দুর্নীতি কমেছে এবং রাজস্ব আয় বেড়েছে। একইসঙ্গে নানা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ মে) ডিএসসিসির নগর ভবনে মেয়র হানিফ মিলনায়তনে ‘উন্নত ঢাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ৩ বছর’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলছেন মন্তব্য করে শেখ তাপস বলেন, ‘গত তিন বছরে দুর্নীতি, অনিয়মসহ নানা অপরাধে ডিএসসিসির শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি কমাতে ভারী গাড়ির ১০৯ জন চালকসহ পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিক সেবা ও করপোরেশনের নৈমিত্তিক কাজে গতি এসেছে। বেড়েছে তদারকি ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের হার। এজন্য দুর্নীতি কমেছে এবং রাজস্ব আয় বেড়েছে।’
ঢাকাবাসীর ওপর কোনও করের বোঝা না চাপানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন মন্তব্য করে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘বিগত তিন বছরে আমরা কোনও খাতে কর বৃদ্ধি করিনি। এ সময় ২৫টি নতুন খাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং চৌদ্দটি নতুন খাত থেকে আমরা রাজস্ব আদায় শুরু করেছি। ফলে করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও রাজস্ব আদায়ে ডিএসসিসি ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে।’
বিগত তিন বছরে শতাধিক উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ৩৪ একরের বেশি জমি উদ্ধার করেছে ডিএসসিসি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি বলে জানান মেয়র তাপস।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়া ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটসহ অনেকগুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। দখলমুক্ত করা হয়েছে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল ঘিরে গড়ে ওঠা কয়েক ডজন অবৈধ বহুতল ভবন ও স্থাপনা। দখলমুক্তির ধারাবাহিকতায় আমরা দীর্ঘ ৮০ বছর পর সূত্রাপুরের মাইশা খাল, তিন দশক পর রায়সাহেব বাজার মোড়, দুই যুগ পর লক্ষ্মীবাজারে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পার্কিংয়ের জায়গা, চল্লিশ বছর পর ধলপুর ক্লিনার কলোনি থেকে অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগের প্রায় সব বকেয়াসহ প্রাত্যহিক পাওনা পরিশোধ করেছি। বর্তমানে ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন, খাল ও নর্দমা থেকে বর্জ্য অপসারণ, করপোরেশনের প্রায় সব গাড়ির নিবন্ধন, দীর্ঘ ৫০ বছরের ভূমি উন্নয়ন করসহ অন্যান্য পুঞ্জীভূত পাওনাদিও পরিশোধ করা হয়েছে।’
মেয়র তাপস বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অটল, অদম্য কর্মোদ্যোগের ফলে ডিএসসিসিতে সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাবাসীর আস্থা বেড়েছে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির মাধ্যমে ডিএসসিসি আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ সংস্থা হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন করপোরেশনের সব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কাউন্সিলররা।