সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন না হয় তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। বুধবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডির মধুবাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত এখন পর্যন্ত দুই হাজার ১৩৩টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩টি জায়গায় আমরা লার্ভা পেয়েছি। তবে এই পরিসংখ্যান দিয়ে পুরো পরিস্থিতি বিচার করা যাবে না। কারণ, একটা পাত্রের লার্ভাই পুরো এলাকায় হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই আমরা চাইবো সবাই যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। নিজেদের আবাসন ও আঙ্গিনা নিজেরাই পরিষ্কার রাখে। আমাদের যেসব বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়, স্থাপনা রয়েছে তাদের স্ব-স্ব দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একটু সচেতন হলেই আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে পারবো।’
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘যে বিষয়টি আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে তা হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ। এর জন্য আমাদের যে অভিযান চলমান আছে, সেই কার্যক্রম আজ সকাল থেকে আমি নিজেই তদারকি করেছি। মধুবাজার এলাকার ২৬টা বাসা আমাদের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছে। আমি নিজে গিয়েও সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে একটি উন্মুক্ত জমি, যা ভাড়া করে বিভিন্ন ব্যক্তি থাকেন, সেখানে একটি মাটির পাত্রে আমরা পানি পেয়েছি। সেই পানিতে লার্ভা ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সচেতন করেছি এবং লার্ভা ধ্বংস করেছি। আমরা লার্ভিসাইডিং করছি আবার বিকালে ফগিং করা হবে যাতে করে উড়ন্ত মশাগুলোও ধ্বংস হয়। এভাবে আমরা ডিএসসিসির ৭৫টা ওয়ার্ডেই একযোগে অভিযান পরিচালনা করছি।’
জেল-জরিমানা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো স্থাপনা রয়েছে, মার্কেট রয়েছে, সেখানেও আমরা নিয়মিত অভিযান করি। তারপরও কোথাও কোথাও পানি জমে থাকতে পারে, সেখানে যারা দায়িত্বশীল লোক আছে তারাও যদি ভুল করে থাকে সেখানে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা অবশ্যই নেবো। তবে আপনারা আমাদের দেখিয়ে দেবেন, জানিয়ে দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। একটি পাত্রে আমরা যে লার্ভা পেয়েছি সেই লার্ভার মাধ্যমে পুরো এলাকাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে। সকলেই হুমকিতে পড়ছে। একটা পাত্র থেকেই প্রচুর মশা হওয়া সম্ভব। এ কারণে আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনও পরিত্যক্ত পাত্র আমরা রাখবো না যেখানে পানি জনে লার্ভা উৎপন্ন হতে পারে। এটুকু যদি আমরা করতে পারি– নিজেদের আঙ্গিনা, নিজেদের জায়গা পরিষ্কার রাখতে পারি, তাহলে আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে পারবো।’
এ সময় ডিএসসিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।