ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে ‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ আর্টবুক বিতরণ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। যুক্তরাষ্ট্রের ডেড সিটি মায়ামির অনুকরণে শিশুদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে এই বই তৈরি করা হয়।
বুধবার (২৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বালিকা শাখা) শাখা থেকে মেয়র ‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ শীর্ষক সচেতনতামূলক কার্টুন বই বিতরণ শুরু করেন। এরপর তিনি আরও চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেন।
সেগুলো হলো লালমাটিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, লালমাটিয়া প্রাইমারি স্কুল, লালমাটিয়া সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামিলা আইনুল আনন্দ উচ্চবিদ্যালয়, শ্যামলী।
পাঁচটি স্কুলের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বই বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা বই পাওয়ার পর অঙ্কন করে। অঙ্কনে ভালো করায় প্রতি ক্লাসের পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার তুলে দেন মেয়র আতিকুল।
বই বিতরণ শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, আমাদের ছোটমণিদের জানাতে চাই, মশার কামড় মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে তাদের জানাতে পারলে, সচেতন করতে পারলে আমরা মশার কামড় থেকে রক্ষা পাবো। বইটিতে চিত্রাঙ্কন করার মাধ্যমে শিশুরা মশার কামড় থেকে বাঁচতে করণীয় সম্পর্কে শিখতে পারে।
আমরা শিশুদের সুপার হিরো বানাতে চাই মশার বিরুদ্ধে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুরা যদি মশার বিষয়ে জানতে পারে এবং কামড় থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারে, তবে অনেকাংশেই মশাবাহিত রোগ রুখতে পারবো। শিশুরা মশার প্রজননস্থল, ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানলে পরিবারে এর প্রভাব পড়বে। সিটি করপোরেশন থেকে এই বই ঢাকা উত্তরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হবে। এক লাখ বই বিতরণ শেষ হলে আমরা আরও বই ছাপিয়ে শিশুদের মাঝে তা বিতরণ করবো।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন স্তরে কাজ করবে ডিএনসিসি
ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন স্তরে কাজ করবে ডিএনসিসি। এ বিষয়ে মেয়র আতিক বলেন, প্রথম স্তরে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটি কাজ করবে। এই কমিটি নিজ নিজ এলাকায় ঘুরে এডিসের লার্ভার উৎসস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংসে ব্যবস্থা নেবে, কোন কোন বাড়িতে ডেঙ্গু রোগী আছে, সেই তালিকা করবে এবং কমান্ড সেন্টারের সার্ভারে মশক নিধন কার্যক্রমের ডাটা এন্ট্রি দেবে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র্যাপিড অ্যাকশন টিম। টাস্কফোর্স কমিটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই টিম সেখানে গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে। আর তৃতীয় স্তরে রয়েছে মেয়রের নেতৃত্ব কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং টিম।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আতিক বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর চার মাস আগে থেকে আমি বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যদের নিয়ে মাঠে নেমেছি। বর্ষায় আমরা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। মশা নিয়ে ল্যাবে গবেষণার জন্য ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কীটনাশকের কার্যকারিতা ও মশার ঘনত্ব, মশার প্রজাতি এই ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে।
এ সময় ডিএনসিসি মেয়র প্রতিটি স্কুলে উপস্থিত অভিভাবকদের মাঝে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিকুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, ডিএনসিসির কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম (সেন্টু), শেখ মোহাম্মদ হোসেন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহিন আক্তার সাথী ও রোকসানা আলম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুলাই) ডিএনসিসির চলমান মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন অভিযানের ১৭তম দিনে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ১১টি মামলায় তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।