জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ

১৫ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দেবে ডিএসসিসি

মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে ১৫ অক্টোবর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকায় বসবাসরত পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী এবং স্কুলে পড়ে না এমন ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক লাখ ৮৯ হাজার ৪৫১ জন মেয়েকে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের (গ্যাভি) সহায়তায় এই টিকাদান কর্মসূচি পালন করবে ডিএসসিসি।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ডিএসসিসির মেয়র হানিফ মিলনায়তনে ‘এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৩’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে প্রথমে ঢাকা বিভাগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে দেশের মোট আটটি বিভাগে। প্রথম পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি চলবে ১৮ দিন। তার মধ্যে প্রথম ১০ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং স্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। পরবর্তী আট দিন নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে এবং স্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। টিকা গ্রহণে উপযুক্ত মেয়েরা ভ্যাক্সেপি (Vaxepi) অ্যাপ অথবা www.vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে ডিএসসিসি আওতাধীন প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ৬৮০টি মনোনীত টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা নিতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে করপোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামান বলেন, ‘এই টিকাটি আমাদের মেয়ে শিশুদের জন্য খুবই দরকারি। এই রোগে আক্রান্ত হলে নারীদের জরায়ু কেটে ফেলতে হয়। আর এ রোগটি শুধু নারীদেরই নয় বরং পুরুষদের মাঝেও ছড়ায়। তবে এ রোগে পুরুষদের চেয়ে নারীদের আক্রান্ত হার বেশি এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাবও বেশি। তাই আমি আশা করবো, সব মেয়ে শিশু এই টিকা নেবে। ভবিষ্যতে যেন এই টিকাটি পুরুষদের জন্য আনা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাই। টিকাটি অনেক ব্যয়বহুল। সরকার এখন বিনামূল্যে এই টিকা দিচ্ছে। সে জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।’

সভাপতির বক্তব্যে করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির বলেন, ‘জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম কারণ এইচপিভি প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো, দেশের লাখ লাখ মেয়েকে জরায়ুমুখ ক্যানসার থেকে রক্ষার মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। এই জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতি বছর হাজার হাজার নারীর জীবন কেড়ে নেয়।’