পানি সরে যাওয়ার পথ নেই, পলিথিন-প্লাস্টিকে পরিপূর্ণ নর্দমা

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রাজধানীতে সকাল থেকেই একনাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে বহু সড়ক ও অলিগলি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২৭ মে) বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর বংশাল, ধোলাইখাল, নিউ মার্কেট, ধানমন্ডিসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় অলিগলি ও মূল সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর মূল কারণ পানি নিষ্কাশনের উপায় নেই। অনেক জায়গায় নর্দমাগুলোর ক্যাচপিটে (যেদিক দিয়ে পানি সড়ক থেকে নর্দমায় প্রবেশ করে) পলিথিন ও প্লাস্টিক দ্রব্যাদি পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হতে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতার জন্য রাজধানীবাসীর অসচেতনতাই দায়ী বলে মনে করেন বংশাল এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, এই এলাকায় সকালের বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি এদিক ওদিক কোথাও যাচ্ছে না। পরে সিটি করপোরেশনের একটা টিম এসে ম্যানহোলের ঢাকনা সরিয়ে অন্তত ১০ কেজির বেশি আবর্জনা বের করেছে।

ড্রেনের মুখ খুলে ভেতর থেকে আবর্জনা সরানোর কাজ করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা (ছবি: আতিক হাসান শুভ)

এই এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, নর্দমার ক্যাচপিটে আমাদের ফেলা ময়লা-আবর্জনার কারণে আজ পানি যাচ্ছে না। আমরা চিপস, পানীয় খেয়ে পলিথিন বা বোতল যেখানে সেখানে ফেলে দেই। ফলে এই বোতল এখন নর্দমা দখল করেছে। যার কারণে পানি ঠিকমতো যাচ্ছে না। তাহলে এই জলাবদ্ধতার পেছনে দায়ী কে? এই শহরে যারা থাকে তারাই তো।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এছাড়াও করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় বৃষ্টিপাতজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে ৯১টি দল। এসব দলে ৫ জন করে কর্মী রয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আওতাধীন এলাকায় কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে নগরবাসীকে ০১৭০৯-৯০০৮৮৮ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ করেছে ঢাদসিক। নগরবাসীর এ সংক্রান্ত ফোন পেলে সিটি করপোরেশন থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর ড্রেন থেকে আবর্জনা সরানোর কাজ করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা (ছবি: আতিক হাসান শুভ)

অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৮০টি এবং প্রকৌশল বিভাগের ১১টি দল কাজ করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ড ১টি করে এবং কয়েকটি ওয়ার্ডে ২/৩টি করে দল কাজ করছে। পাশাপাশি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলে প্রকৌশল বিভাগ থেকে ১১টি দল কাজ করছে।

নগরবাসীর কাছে জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের সুফল পৌঁছে দিতে রাজধানীর বাসিন্দাদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।