সিএনজিচালিত অটোরিকশার দৈনিক জমা কমানোর দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন অটোরিকশা চালকরা। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালের রাজধানীর সায়েদাবাদের জনপথ মোড় সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করেন তারা।
এ সময় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তানগামী এবং যাত্রাবাড়ীমুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দৈনিক জমা ৯০০ টাকা হলেও মালিকরা তাদের কাছ থেকে দৈনিক ১ হাজার ২৫০ টাকা জমা নেন। সে হিসেবে মালিকরা ৩৫০ টাকা বেশি নেন। সরকার নির্ধারিত জমা নেওয়ার দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।
বিক্ষুব্ধ চালকরা বলেন, অনেক সময় মালিকরা একদিনে দুই জনের কাছেও গাড়ি দিয়ে জমা আদায় করে থাকেন। একজন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চালান তার কাছ থেকে নেন ৯০০ টাকা। রাতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া দেন আরেক জনের কাছে। তার কাছ থেকে নেন সাড়ে ৭০০ টাকা।
তৌহিদ হোসেন নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, ‘বেশি টাকা আদায় করে মালিকরা আমাদের মতো গরিব চালকদের শোষণ করছেন। শোষণ থেকে মুক্তি পেতে আমরা সড়ক অবরোধ করেছি। আমরা চাই, মালিকরা আমাদের থেকে সরকার নির্ধারিত টাকা নিক।’
তিনি বলেন, ‘সারা দিন গাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, তার মধ্য থেকে আমাদের জ্বালানি খরচ দিতে হয়। তার ওপর এত বেশি জমা দেওয়ায় পকেটে আর কিছুই থাকে না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। দৈনিক যদি ২৫০ টাকাও বাঁচাতে পারি সেটা আমাদের বড় উপকার হবে।’
যাত্রাবাড়ীর এক অটোরিকশা চালক বলেন, মালিকরা ১২ ঘণ্টাকে একদিন হিসেবে ধরেন। এ সময়ের জন্য তাদের ১ হাজার ২৫০ টাকা দিতে হয়। এদিকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হয় আমাদের। এতে অনেক সময় চলে যায়। ঠিক মতো সাত-আট ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারি না। বেশি জমা হওয়ায় গাড়ি চালিয়ে আমাদের আর কিছুই থাকে না। কোনও মালিক সরকার নির্ধারিত ৯০০ টাকা নেন না। এ জন্য সব চাপ আমাদের ওপর এসে পড়ে। আমরা সবাই চাই, সিএনজি অটোরিকশা মালিকরা যেন সরকার নির্ধারিত টাকা নেন। আর ২৪ ঘণ্টা হিসেবে একদিন ধরেন।