রাজধানীর পল্লবীতে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আয়েশা আক্তার নামে এক নারী নিহতের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পল্লবী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করা হয় সেনাবাহিনী।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মাকছেদুর রহমান এ তথ্য জানান।
আয়েশা নিহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে আল ইসলাম ও তার ভাই জাহাঙ্গীরসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলার দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, দুই গ্রুপের মাদকের কারবার ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে সংঘটিত গোলাগুলিতে আয়েশা সিদ্দিকা মারা যান। এ ঘটনায় আল ইসলামের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পল্লবীসহ অন্যান্য থানায় অস্ত্র, মাদক, জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাকে থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিসি মোহাম্মদ মাকছেদুর রহমান বলেন, ‘আল ইসলামের বিরুদ্ধে পল্লবীসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আয়েশা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় আল ইসলামসহ আরও অনেকের সংশ্লিষ্টা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অন্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
পল্লবী থানা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পল্লবী থানার মিরপুর সেকশন-১১ এর বাউনিয়াবাঁধ বি ব্লকে চিহ্নিত মাদক কারবারি মমিন, শাবু, সম্রাট, শামিম, জয়নাল, ইদ্রিস, কালা মোতালেব, কামাল, জাহাঙ্গীর, আল ইসলাম, ভেজাল মামুন, জয়, ইউনুস, রুবেলসহ অজ্ঞাত ১৪-১৫ জন এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফতের ভাই মামুনের কাছে চাঁদা চায়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে বাউনিয়াবাঁধ বি ব্লকের বাসার দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়েশা আক্তার গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কে এই আল ইসলাম!
পল্লবী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকায় বেড়ে ওঠা আল ইসলাম ও তার ভাই জাহাঙ্গীর এক সময় নিজেরা ভাঙারি মালামাল কেনা-বেচা করতো। এর আড়ালে তারা মাদকের কারবার শুরু করে। মাদক কারবারে জড়ানোর পর তাদের অর্থ-সম্পদ ফুলে-ফেপে বেড়ে যায়। সঙ্গে বাড়ে নিরীহ মানুষের ওপরে অত্যাচার। তাদের মাদক কারবার চালানোর জন্য ৪০-৫০ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে। যাদের দিয়ে মাদক বিক্রি ও বিরোধী বা প্রতিপক্ষদের দমন করা হয়।
শফিকুল ইসলাম নামে এক জমির মালিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল আল ইসলাম। চাঁদা না দেওয়ায় তার ওপরে হামলা করা হয়। পিটিয়ে আহত করা হয় জমির কেয়ারটেকারসহ অন্যদের। মারধরের অভিযোগে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম মামলা করেন। প্রাণনাশের হুমকিতে নিজ বাসায় থাকতে পারছেন না বলে জানান ভুক্তভোগী শফিকুল।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে আল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মিরপুর পল্লবী এলাকার প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে আল ইসলাম। সেই ছবি প্রচার করে আরও বেপরোয়া সে। গত ৬ আগস্ট সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার ওপর হামলা করে আল ইসলামের বাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আবুল কালাম আজাদের হাত ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এই হামলার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, আল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী আজাদকে ঘিরে ধরে। হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মাঝ রাস্তায় ফেলে পেটানো হয় তাকে।