রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আবারও নগর পরিবহন ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তাই ঢাকায় যেকোনও রুটে বাস চলতে হলে ঢাকা নগর পরিবহনের আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম।
সোমবার (১১ নভেম্বর) ডিএসসিসিতে অনুষ্ঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রশাসক।
নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রাজধানীতে গণপরিবহন পরিচালনার জন্য নগর পরিবহনের আওতায় আসতে আবেদনের নির্দেশনা দিয়েছিলাম। আজ পর্যন্ত ৮০টি বাস কোম্পানি আবেদন করেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাস কোম্পানিগুলো আবেদন করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ১০-১২ জনের একটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কমিটি বিজনেস মডেল এবং বাসগুলো কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে রূপরেখা তৈরি করবে। আমরা আগামী ১১ ডিসেম্বর আবার মিটিং করবো।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঢাকার ৪২টি রুটের কোম্পানিগুলোর বাস নগর পরিবহন নামেই অপারেট করবো। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন যোগ্যতায় বিবেচনা করে নির্বাচন করা হবে।’
দক্ষিণের প্রশাসক আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, তাতে বাস মালিকরা সহযোগিতা করবেন বলে আশা করি। আরামদায়ক ট্রান্সপোটেশন সিস্টেম চালু থাকবে।’
রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ২০১৬ সালের শুরুতে ছয়টি কোম্পানির অধীনে ছয় রঙের বাস নামানোর উদ্যোগ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। তার মৃত্যুর পর এই উদ্যোগ থেমে যায়। পরে ২০২০ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৯টি ভিন্ন ভিন্ন রঙের, ২২টি কোম্পানি ও ৪২টি রুটের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।
পরিশেষে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে ঢাকা নগর পরিবহন। তবে তিন বছর পর হলেও এই পরিকল্পনা এখনও সফল করতে পারেনি বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি।
ঢাকা নগর পরিবহন হওয়ার পর কয়েকটি রুটে সবুজ রঙের বাস চলাচল শুরু করে। যাত্রীদের বেশ সাড়াও পায়। তবে একই রুটে অন্য কোম্পানির বাস চলাচল করা এবং বাস মালিকদের আগ্রহ না থাকাসহ ঢাকা নগর পরিবহনে পর্যাপ্ত বাস যুক্ত করতে না পারায় ধীরে ধীরে শুরু জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে এই ব্যবস্থা। পরে চলতি বছর ৫ আগস্ট থেকে এটি বন্ধ থাকে। তবে খুব শিগগিরই এই নগর পরিবহণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।