উদ্ধার হয়নি দখল হওয়া পাবলিক টয়লেট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় পার্ক রয়েছে ৩০টি। নাগরিক সেবার জন্য সবগুলো পার্কেই নির্মাণ করা হয়েছে পাবলিক টয়লেট। তবে উদ্বোধনের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ওইসব পারেক বিঘ্নিত হচ্ছে নাগরিক সেবা। পার্কের বেশিরভাগ টয়লেট এখনও রয়েছে তালাবদ্ধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্কের টয়লেটগুলো অনেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। কেউ ব্যবহার করছেন সংগঠনের টয়লেট হিসেবে, আবার কেউবা ব্যবহার করছেন স্টোর রুম হিসেবেও। কোনও কোনও টয়লেট কারণ ছাড়াই তালাবদ্ধ করে রেখে নিজের আধিপত্য জাহির করছেন। এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের।

এ নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউন। এরপরও কর্ণপাত করেনি ডিএসসিসি। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলদের নানা অজুহাতে এখনও দখলমুক্ত হয়নি পাবলিক টয়লেটগুলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সরদার পার্কের পাবলিক টয়লেটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেটি শুধু সেখানকার পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা ব্যবহার করেন। পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী বা অন্য কেউ এই টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন না।

ধূপখোলা মাঠের পাশে অবস্থিত মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মাঠের পাবলিক টয়লেটটি উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পার্কে জগিং করতে আসা আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনস্বার্থে তৈরি করা পাবলিক টয়লেট একটা সংগঠনের গুটিকয়েক লোক দখল করে রেখেছেন। অথচ এটা সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া দরকার ছিল। সিটি করপোরেশনকে অভিযোগ জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। এখন নতুন করে আর কী বা বলার থাকে।’

রোকসানা রশীদ নামে আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নিয়ে প্রতিদিন সকালে পার্কে হাঁটতে আসি। কারণ এই এলাকায় আর কোনও খালি জায়গা নেই। দুঃখজনক বিষয় হলো— এখানে হাঁটতে এসে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। পার্কে টয়লেট থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা যায় না।’

অপরদিকে, পুরান ঢাকার নবাব সিরাজউদ্দৌলা পার্কের জায়গা দখল করে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করেছেন দখলদাররা। রেস্টুরেন্টে খেতে আসা ব্যক্তিদের জন্য পার্কের একমাত্র পাবলিক টয়লেটটিও দখলে রেখেছেন তারা।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা পার্কের বিষয়ে জিন্দাবাহার এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই পার্কের টয়লেট আগে ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। এখন দখল নিয়েছে বিএনপি। আগে কফি শপের দোকানি টয়লেটকে স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করতো। এখনকার রেস্টুরেন্টের লোকজন তাই করছে। মাঝখানে আমরা যারা পার্কে একটু স্বস্তি খুঁজতে আসি তারা বিপাকে পড়ি।’

তালাবদ্ধ পাবলিক টয়লেট

ধূপখোলা মাঠের পাশে অবস্থিত মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মাঠের পাবলিক টয়লেটটিও উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ রয়েছে। মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি এই টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন। পার্কে আসা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে অভিযোগ জানালেও কোনও প্রতিকার হয়নি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফনান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা প্রায়ই এখানে আড্ডা দেই। কখনোই এখানকার টয়লেটগুলো খোলা দেখি না। সবসময় তালাবদ্ধ থাকে। একদিন জরুরি কাজ সারতে তালা ভেঙে টয়লেট ব্যবহার করি। পরের দিন আবার দেখি নতুন তালা।’

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘পাবলিক টয়লেট যদি পাবলিক ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে কারা ব্যবহার করবে? সিটি করপোরেশনের নিয়মিত তদারকির অভাবে আজ পার্কের জায়গাসহ পাবলিক টয়লেট পর্যন্ত দখল হয়ে যাচ্ছে। দায়িত্বশীলরা যদি তাদের দায়িত্ব না পালন করতে পারেন, তাহলে সেই পদে বসে থাকার কোনও এখতিয়ার তাদের নেই।’

পার্কের পাবলিক টয়লেটের বিষয়ে ধূপখোলার বাসিন্দা সুমাইয়া শিমু বলেন, ‘পার্কে ব্যায়াম করতে আসা নারীরা যখন দেখেন টয়লেটে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তখন অস্বস্তিবোধ করেন। পার্কের টয়লেট উন্মুক্ত হলে সবার জন্য সুবিধা হয়।’

কবে পার্কের জায়গাসহ পাবলিক টয়লেটগুলো দখলমুক্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করা হবে– তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। দখল হয়ে যাওয়া পাবলিক টয়লেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টয়লেট আসলে ব্যক্তি বা কোনও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নির্মাণ করা হয়নি। এটা নাগরিক সেবার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।’

কবে নাগাদ পাবলিক টয়লেট দখলমুক্ত করা হবে জানতে তিনি বলেন, ‘এটা বলা কঠিন। নানা কারণে আগের মতো উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিশীলতা বাড়লে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হবে।’

ছবি: প্রতিবেদক