রাজধানীর খিলগাঁও দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসায় ১২ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাসুদ রানা (৪৫) নামে এক গৃহকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১১ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুকে চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা জানান, তিনি নিজে পেশায় অটোরিকশাচালক। শিশুটির মা তাকে রেখে অন্য জায়গায় সংসার পেতেছেন ৫ বছর আগে। বর্তমানে সংসারে অভাব অনটনের কারণে চলতি মাসের ১ তারিখে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লক, রোড ১৪-এর ১১ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার গৃহকর্তা মাসুদ রানার বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দিয়েছিলেন।
তিনি জানান, গত বুধবার (৭ মে) মেয়ে ফোনে জানায় ওই বাসায় আর কাজ করবে না। তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে বলে। তাকে এর বেশি কথা বলতে দেননি গৃহকর্তা মাসুদ রানা। পরের দিন বৃহস্পতিবার (৮ মে) মেয়েকে আনা হয়। কিন্তু বাসায় আনার পর শিশুটি ঠিকমতো খাবার খেতো না এবং শুধু চুপচাপ বসে থাকতো। এটি দেখে তার সন্দেহ হলে তিনি নিজেই মেয়েকে তার সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করেন। তবে শিশুটি কিছুই বলেনি। শুক্রবার (৯ মে) প্রতিবেশী এক নারীর মাধ্যমে সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তখন শিশুটি জানায়, ওই বাসার গৃহকর্তা মাসুদ রানা কাজে যাওয়ার পরদিন রাতেই ধর্ষণ করেছেন। আর কাউকে বিষয়টি না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
বিষয়টির সত্যতা জানতে শুক্রবার রাতেই ফোনে গৃহকর্তার সঙ্গে তিনি কথা বলেন। তার অভিযোগ, মাসুদ রানা তখন উল্টা বকাঝকা করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর শনিবার (১০ মে) খিলগাঁও থানায় গিয়ে তিনি মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুদ রানা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, গত ১ মে শিশুটি ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিল। এর পরদিনই তাকে ধর্ষণ করে গৃহকর্তা মাসুদ রানা— এমনটিই মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওসি জানান, মাসুদ একটি গার্মেন্টসের সিনিয়র অফিসার। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (১১ মে) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর উত্তর মোন্তাজে।