ঢাকার বংশালের কসাইটুলিতে ভূমিকম্পে ছয়তলা ভবনের রেলিং ধসে তিন জন পথচারী মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ভূমিকম্পের পর কসাইটুলির কেপি ঘোষ স্ট্রিটের ২০/সি নম্বরের ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে। এতে তিন পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে ছয়তলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিন পথচারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। ভবটির নিচে একটি গরুর মাংস বিক্রির দোকান ছিল। সেখানে থাকা ক্রেতা ও পথচারীরা আহত হন। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন।
বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সোহেল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভবন ধসের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়েছে। ভাঙা বস্তুর আঘাতে ভবনের আঘাতে থাকা তিন জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভবন ধসের খবর পেয়ে সদরঘাট ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট সেখানে যায়। কিন্তু সেখানে ভবন ধসের ঘটনা ঘটেনি। পলেস্তারার কিছু অংশ ও কিছু ইট খসে পড়েছিল। এতে তিন জন আহত হন। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ২৬ সেকেন্ডের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৭ এবং উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদীতে।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে ছয়তলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিন পথচারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। ভবটির নিচে একটি গরুর মাংস বিক্রির দোকান ছিল। সেখানে থাকা ক্রেতা ও পথচারীরা আহত হন। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন। এ ঘটনায় নিস্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
সরেজমিনে কে.পি ঘোষ স্ট্রিটের বাংলা স্কুলের সামনের স্থানটিতে ইট-সিমেন্টের খোয়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই স্থানেই ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে পড়ে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
ভবনটির মালিকের ভাতিজা রকি বলেন, ছাদের পাশে শিশুদের জন্য তিন ফিট উচ্চতার একটি নিরাপত্তা দেয়াল ছিল। ভূমিকম্পের ফলে সেটা ভেঙে পড়ে পথচারীরা গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখানে কাউকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সড়কের নিচে ত্রিপল দেওয়া ছিল। তাই ইট-খণ্ডের অনেকটাই সেখানে আটকে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির নিচতলায় থাকা ‘বিসমিল্লাহ গরু-খাশি মাংস সাপ্লাই’ দোকানের কর্মচারি মো. হালিম বলেন, ঘটনার সময় আমি দোকানের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে কিছু পড়ার শব্দ পাই। একই সময়ে ভূমিকম্পের কম্পনও টের পাই। পরে বাইরে বেরিয়ে দেখি সবাই দৌড়াচ্ছে।