কড়াইলসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বস্তিবাসীর জন্য বহুতল আবাসন নির্মাণের ঘোষণা থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাসায় বাসায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর প্রাথমিক তালিকা যাচাই করা হবে। একইসঙ্গে থাকবে আপিলের সুযোগও। অন্যদিকে, নতুন আবাসনে পানি, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বলছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
তবে তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন। কত তলা ভবন হবে, ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিম্ন আয়ের মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকবে কিনা, নির্মাণের সময় বাসিন্দারা কোথায় থাকবেন এবং বরাদ্দ পাওয়া ফ্ল্যাট শেষ পর্যন্ত প্রকৃত বস্তিবাসীদের দখলে থাকবে কিনা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, বস্তিবাসীর যে তালিকা এখন তৈরি হচ্ছে, সেটি প্রাথমিক। যাচাই-বাছাইয়ের পর আবাসনের পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে।
তিনি বলেন, ‘‘তালিকাটা সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে যাচাই-বাছাই করা হবে। যতটুকু জানি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকাটি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। শেষ হওয়ার পর আবার যাচাই করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’’
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কড়াইল, টিঅ্যান্ডটি কলোনি, উত্তরা তৃতীয় পর্যায় ও টঙ্গীর দত্তপাড়ায় হাজার হাজার নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবার নিরাপদ আবাসন পেতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বহুতল ভবন নির্মাণ নয়— প্রকৃত বস্তিবাসী শনাক্ত করা, সহনীয় ভাড়া, নির্মাণকালীন পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই হবে প্রকল্পের সাফল্যের আসল পরীক্ষা।
চার এলাকায় বড় পরিকল্পনা
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ১৩ মে অনুষ্ঠিত এক সভায় ঢাকা ও অন্যান্য শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসন প্রকল্প নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কড়াইল বস্তিতে রাজউক এবং টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে গণপূর্ত অধিদফতরকে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ফ্ল্যাটের গ্রস আয়তন ৭৫০ বর্গফুট ধরে অভিন্ন নকশা তৈরির কথাও বলা হয়েছিল।
উত্তরা তৃতীয় পর্যায়ে সংরক্ষিত ১০ একর জমিতেও নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি সংস্থার নিজস্ব তহবিলের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়।
সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাটি টঙ্গীর দত্তপাড়ায়। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় তিন ধাপে ১০০টি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকাশিত ধাপভিত্তিক হিসাবে প্রথম পর্যায়ে ২ হাজার ১৪২টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫ হাজার ৯২২টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে ৫ হাজার ৪৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কথা। এতে মোট ফ্ল্যাট দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৫০০টি। অথচ সরকারি বিভিন্ন তথ্যে মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা ১২ হাজার ৬০০টির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ধাপভিত্তিক হিসাবের সঙ্গে ঘোষিত মোট সংখ্যার পার্থক্য ৯০০ ফ্ল্যাট। চূড়ান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরির আগে এ অসংগতি দূর করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ ফ্ল্যাটসংখ্যা বদলালে জমির ব্যবহার, জনঘনত্ব, নির্মাণ ব্যয়, পানি-বিদ্যুতের চাহিদা এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বদলে যাবে।
তিন বস্তিতে ৩৫ হাজার পরিবারের তথ্য
গত মাসে (জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া সরকারি তথ্যে বলা হয়, ড্যাপ ২০২২-২০৩৫ অনুযায়ী কড়াইলসহ ৫৮টি এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সাশ্রয়ী আবাসনের স্থান চিহ্নিত করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে পর্যায়ক্রমে প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তিকে নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও সমন্বিত আবাসন পরিকল্পনার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিপিপি তৈরির পাশাপাশি বাসিন্দাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এপ্রিল থেকে পরিচালিত জরিপে তিন বস্তিতে প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার এবং আনুমানিক দেড় লাখ মানুষের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, অর্থায়ন, বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাণকালে বাসিন্দাদের সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রকৃত বস্তিবাসী যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য সরেজমিন যাচাই ও আপিলের ব্যবস্থা থাকবে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘‘যারা দীর্ঘদিন, যুগের পর যুগ সেখানে বসবাস করছেন, তাদের স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্যই এই ঘোষণা। প্রাথমিক তালিকা করার পর আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে, বাসায় বাসায় যাওয়া হচ্ছে। এরপরও কারও অভিযোগ থাকলে আপিলের ব্যবস্থা অবশ্যই থাকবে।’’
প্রথম চ্যালেঞ্জ: প্রকৃত বাসিন্দা শনাক্ত করা
সংশ্লিষ্টরা জানান, বস্তির ঘরমালিক, জমির দখলদার এবং ভাড়াটে— এই তিন শ্রেণি এক নয়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা বস্তিবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, বস্তিবাসীদের বড় অংশই ভাড়াটে। ফলে শুধু ঘরের মালিক বা প্রভাবশালীদের দেওয়া তালিকার ওপর নির্ভর করলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার বাদ পড়তে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি পানি-বিদ্যুতের ব্যবহার, সন্তানের স্কুল, স্থানীয় কর্মস্থল, ভোটার তথ্য, প্রতিবেশীর সাক্ষ্য ও ভাড়ার ইতিহাস মিলিয়ে পরিবারভিত্তিক ডিজিটাল তালিকা করা প্রয়োজন। খসড়া তালিকা প্রকাশ, আপত্তি গ্রহণ এবং স্বাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা না থাকলে বরাদ্দ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাব ও বাণিজ্যের ঝুঁকিতে পড়বে
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ: কত তলা ভবন ও কত ভাড়া
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বহুতল আবাসনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রধান প্রশ্ন ভবনের উচ্চতা ও পরিচালন ব্যয়। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ৪০ থেকে ৫০ তলার অতি উঁচু ভবন, ২০ তলা ভবন নাকি পাঁচ-ছয় তলার ‘ওয়াকআপ’ ভবন—কোন মডেল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে সাশ্রয়ী হবে, সেটিই আগে নির্ধারণ করতে হবে।
তার মতে, উঁচু ভবনে লিফট, জেনারেটর, পানির পাম্প, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যায়। অতীতের ভাড়াভিত্তিক প্রকল্পে লক্ষ্যভুক্ত অনেক পরিবার দীর্ঘমেয়াদে থাকতে পারেনি। ফলে শহরের কেন্দ্রের বাইরে পাঁচ-ছয় তলার, লিফট-জেনারেটরবিহীন ওয়াক-আপ ভবন বেশি কার্যকর হতে পারে।
৭৫০ বর্গফুটের এক ধরনের ফ্ল্যাটের পরিবর্তে পরিবারের আকার অনুযায়ী ছোট-বড় বিভিন্ন ইউনিট রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। একক শ্রমজীবীর জন্য ১০০ থেকে ১৫০ বর্গফুট, ছোট পরিবারের জন্য ২০০ থেকে ৩০০ বর্গফুট এবং বড় পরিবারের জন্য তুলনামূলক বড় ইউনিট বিবেচনা করা যেতে পারে।
আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘‘ওয়ান সাইজ ডাজ নট ফিট ফর অল। সব জায়গায় হাই-রাইজ করা যাবে না। টেকসই করতে হলে মিড-রাইজ বা ওয়াক-আপ ভবনের কথা ভাবতে হবে। যেটি জ্বালানি-নির্ভর নয় এবং যেখানে দরিদ্র মানুষ কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকতে পারবেন।’’
মালিকানা নয়, ভাড়াভিত্তিক মডেল
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, ভর্তুকি দিয়ে মালিকানা হস্তান্তরের মডেল বাংলাদেশে কার্যকর হওয়ার নজির দুর্বল। ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেওয়া বা অন্যের কাছে হস্তান্তরের ঝুঁকি থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াভিত্তিক মডেল তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত। তবে ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ পরিবারের আয়ের মধ্যে না থাকলে সেই মডেলও টিকবে না। সবচেয়ে দরিদ্র, নারীপ্রধান, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার ও প্রবীণদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন প্রকল্প দিয়ে ঢাকার বিপুল আবাসন সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। সরকারকে বড় পরিসরে জমির সরবরাহ বাড়াতে হবে। সরকারি জমিতে নিয়ন্ত্রিত শর্তে বেসরকারি খাতকে ছোট আকারের সাশ্রয়ী ভাড়ার ইউনিট নির্মাণে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্তৃত্ব থাকতে হবে।’’
নির্মাণকালে বস্তিবাসী থাকবেন কোথায়
কড়াইলের মতো বড় বস্তি একবারে খালি করে নির্মাণ শুরু হলে বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান, সন্তানদের শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগ ভেঙে পড়তে পারে। তাই ছোট ব্লকে ধাপে ধাপে অন-সাইট পুনর্বাসনের প্রস্তাব করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমে খালি বা কম ব্যবহৃত জায়গায় একটি ভবন নির্মাণ করে কিছু পরিবারকে স্থানান্তর এবং পরে খালি হওয়া অংশে পরবর্তী ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। প্রকল্প এলাকার বাইরে সাময়িক আবাসন হলে কর্মস্থলে যাতায়াত ভর্তুকি এবং শিশুদের বিদ্যালয় অব্যাহত রাখার ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
নাগরিক সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের চাপ
নতুন আবাসনে পয়োনিষ্কাশন, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সবুজায়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘‘দেশে এখনও বড় অংশে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। এ কারণে খাল, বিল, লেক ও নদীতে দূষণ বাড়ছে। নতুন আবাসন প্রকল্পে ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য পানি পরিশোধনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ওয়াসার সঙ্গে আমরা অনেকবার সমন্বয় সভা করেছি। পয়োনিষ্কাশনের পানি দাশেরকান্দির মতো স্থাপনায় নিয়ে পরিশোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সমন্বয় করেই কাজ করছি।’’ এই নগর প্রশাসক আরও জানান, নতুন বহুতল আবাসনের আশপাশে সবুজায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ ধরে রাখা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি প্রকল্পে পৃথক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং বাসিন্দাদের নির্বাচিত কমিটি থাকা প্রয়োজন। নিচতলায় দোকান, কর্মশালা ও কমিউনিটি স্পেস রেখে সেখানকার আয় রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলে যুক্ত করা যেতে পারে।
ভবন উঠবে, মানুষ থাকবে তো?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কড়াইল, টিঅ্যান্ডটি কলোনি, উত্তরা ও দত্তপাড়ার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের নগর আবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু সাফল্য শুধু ভবনের উচ্চতা বা ফ্ল্যাটের সংখ্যা দিয়ে মাপা যাবে না। সাফল্যের আসল মাপকাঠি হবে— কড়াইলের যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গৃহকর্মী, রিকশাচালক কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন ভাড়া ঘরে থাকেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলের কাছাকাছি, নিজের সামর্থ্যের মধ্যে এবং নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারছেন কিনা। না হলে ভবন হয়তো উঠবে, কিন্তু যাদের জন্য ভবন—তারাই আবার শহরের অন্য কোনও প্রান্তে নতুন কোনও বস্তিতে ঠাঁই নিতে বাধ্য হবেন।
কড়াইল বস্তির বেলতলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাত্তার। গত ২০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “তারেক রহমানকে ভোট দিয়ে আমরা এমপি বানিয়েছি। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী। তিনি চাইলে আমাদের মতো বস্তিবাসীদের জন্য অনেক কিছু করতে পারেন। ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোনও দিনই স্বস্তিতে থাকতে পারিনি। বর্ষাকালে ঝড়-বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে যায়। তীব্র গরমেও ঘরে থাকা যায় না। পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে কে না চায়?’’
তিনি বলেন, “আমাদের জন্য যদি নতুন বহুতল ভবনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল হবে। তবে শুধু ঘর দিলেই হবে না। আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে এবং মানুষ হওয়ার সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থাও থাকতে হবে।”
কড়াইল বস্তির আদর্শ নগর এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনার আমলেও শুনেছি বস্তিবাসীদের জন্য নানা পরিকল্পনা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি। তখন কয়েক দফা আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের নামও নিয়েছিলেন। টাকাও দিয়েছিলাম। এরপর উল্টো মাঝেমধ্যেই রহস্যজনকভাবে বস্তিতে আগুন লাগত।”
তিনি বলেন, “এবারও সিটি করপোরেশন থেকে একবার নাম নেওয়া হয়েছে। শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী এলে নতুন বিল্ডিং নির্মাণের ঘোষণা দেবেন। কিন্তু এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়েও রাজনীতি শুরু হয়েছে। শুনছি, টাকা না দিলে ঘর পাওয়া যাবে না। বেশি টাকা হলে আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এমন মূল্য নির্ধারণ করা উচিত, যা নিম্ন আয়ের মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকে। আর যদি স্বল্প কিস্তিতে ঘর পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী যদি এমন উদ্যোগ নেন, তাহলে আমরা তাঁর জন্য দোয়া করবো।”