আদি ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রাকে নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে ‘ঢাকা নাট্যোৎসব’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এ নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
উৎসবে আদি ঢাকার জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উপজীব্য করে নির্মিত আটটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। এর মধ্যে মতিউর রহমান রানার নির্দেশনায় গ্রন্থিক নাট্যদলের ‘গিরগিটি’, হামিদুর রহমান পাপ্পুর নির্দেশনায় শৌখিন নাট্যদলের ‘অন্তরালে আয়না’, সূচনা তিসার নির্দেশনায় মৈত্রী থিয়েটারের ‘রঙিলা ফানুস’, এস কে রতনের নির্দেশনায় নবনাটের ‘ভেলকি’, খোরশেদুল আলমের নির্দেশনায় শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ‘চম্পাবতী’, গোলাম সারোয়ারের নির্দেশনায় ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের ‘ঘরজামাই’, শওকত হাসানের নির্দেশনায় স্বরবিথী থিয়েটারের ‘শাস্তি’ এবং শুভাশীষ দত্ত তন্ময়ের নির্দেশনায় মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায়ের ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’ রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সমাজের অবক্ষয় রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। নাটক, গান, সাহিত্যচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো, যুদ্ধ করি’ গানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি ভালো গান বা ভালো সংস্কৃতিচর্চাও সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নাটক হতো, ছিল পাঠাগারও। তরুণরা পাঠাগারের সদস্য হয়ে উপন্যাস, নাটক, গল্প ও কবিতার বই পড়ত। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণ তৈরি হতো।
‘এই ঢাকা আমার’—এই অনুভূতি নাগরিকদের মধ্যে তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, নিজের ঘর ও ড্রয়িংরুম যেমন পরিচ্ছন্ন রাখা হয়, তেমনি নিজের শহরের রাস্তাকেও নিজের ঘরের মতো ভালোবাসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।