রোড ডিভাইডারে ডিএসসিসির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের রোড ডিভাইডারগুলোকে সবুজ ও নান্দনিক করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সাজেদা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পল্টন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত মেট্রোরেলের নিচের সড়ক বিভাজনে এই বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সচিবালয় মেট্রো স্টেশনের নিচে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ডিএসসিসি প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সাধারণ নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ঢাকার সার্বিক পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ডিএসসিসি এলাকার সুবিধাজনক প্রতিটি স্থানে গাছ লাগানো হচ্ছে। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিএসসিসির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ হলেও আরও বেশি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের নানামুখী সামাজিক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও টিকাদান কর্মসূচিতেও করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। অন্যান্য সামাজিক সংগঠন ও এনজিওগুলো একইভাবে এগিয়ে এলে ঢাকার নাগরিক সেবা আরও গতিশীল হবে।

নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শহরের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি রাস্তায় বা রোড ডিভাইডারে ময়লা ফেলা বন্ধ করে, তবে তা সিটি করপোরেশনের কাজে বড় সহায়তা হবে। সবাইকে নিজ নিজ উদ্যোগেই আশপাশের রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে।

পুরান ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এ অঞ্চলে নানা নাগরিক সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমাধানে সিটি করপোরেশন নিরলস কাজ করছে, তবে যুবক ও শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় নাগরিকরা নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এলে এ কাজ আরও সহজ হবে।

হকার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি জানান, হকারদের কর্মসংস্থানের মানবিক দিকটি বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তবে সব ফুটপাত বা প্রধান সড়কে হকার বসার কোনও সুযোগ থাকবে না। মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখা হবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের উচ্ছেদের আগেই নিজ দায়িত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিবন্ধিত হকারদের জন্য গুলিস্তানে হলিডে মার্কেট ও বিকাল ৪টার পর নাইট মার্কেটের মতো বিকল্প স্থানে বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, সবাই নিজ অবস্থান থেকে একটি করে গাছ লাগালেই শহরকে দ্রুত সবুজ রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সাজেদা ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।