এ যেন অন্য এক মিরপুর-১০, প্রশংসায় ভাসছে সরকার

রাজধানীর মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বরের সড়ক। অল্প কয়েক মিনিট হাঁটলেই হোপ স্কুলের মোড়। ১০-এর মোড় থেকে ১৪-এর যতই সামনে যেতে থাকবেন ততই অবাক হবেন। নেই চিরচেনা হাঁকডাক। রাস্তাজুড়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের যে আধিক্য ছিল, সেটিও নেই। হকার উচ্ছেদে পাল্টে গেছে এই এলাকা। এ যেন অন্য এক মিরপুর।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সরেজমিন ঘুরে এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে।  

মিরপুর ১০-এর চিরচেনা দৃশ্য উধাও

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম ও কোলাহলযুক্ত এলাকা মিরপুর ১০ গোলচত্বর। ফার্মগেট থেকে গিয়ে এখানে নামলে সামনে ১১, ডানে ১৪ আর বাঁয়ে মিরপুর-১। গোলচত্বরসহ পুরো এলাকা হকারে গিজ গিজ করতো। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাই দায় হতো। একই অবস্থা ছিল ১৪ নম্বরের দিকের রাস্তাতেও। হোপ স্কুলের আশপাশ ঘিরে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কারণে থাকতো কোলাহলপূর্ণ। সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে মানুষই চলাচল করতে পারতো না, তার ওপর চলতো অটো। অর্থাৎ চলাচলে এক ধরনের অসহনীয় যন্ত্রণা ছিল। মিরপুর ১০ থেকে যেদিকেই যাওয়া হয় না কেন জ্যামে অস্থির থাকতে হতো।

mirpur-bangla-tribune3

কিন্তু সেই চিরচেনা রূপ বদলে গেছে। শুধু মিরপুর ১০ গোলচত্বর নয়, এর আশপাশের পুরো এলাকাজুড়ে নেই কোনও ফুটপাত। নেই সেই চিরচেনা কোলাহল। পুরো রাস্তা এখন নীরব। আর জ্যাম তো নাই-ই।  

হোপ স্কুল এলাকায় দেখা মিলছে বড় রাস্তার

১৪ নম্বরের দিকে যেতেই পড়ে মিরপুর হোপ স্কুল। এই স্কুলের চারপাশে ফুটপাতের দখলে ছিল। প্রশস্ত রাস্তা থাকলেও অর্ধেকের বেশি জুড়ে ছিল হকারদের দখলে। তবে হকার উচ্ছেদে এখন এখানে বড় রাস্তার দেখা মিলছে। যা একসময় দখলের কারণে সংকীর্ণ ছিল। হোপ স্কুল থেকে হাতের বামে সেকশনে প্রবেশ করতেও একই অবস্থা। এখানেও রাস্তার দুপাশে নেই কোনও ফুটপাতের দোকান।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, পূর্বে তো এই রাস্তায় হাঁটাই যেতো না। হকার অটোতে এমনভাবে থাকতে রাস্তায় ঠিকমতো গাড়িও চলতে পারতো না। কিন্তু হকার উচ্ছেদের পর আমরা নিজেরাই অবাক হয়ে যাই, এটা এত বড় রাস্তা। এখন ছেলে-মেয়েরা সুন্দরভাবে হাঁটতে পারে, আমরা নিজেরাও চলতে পারি।

আবুল কাশেম নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, হকাররা যে কীভাবে এগুলো দখল করে ছিল, তা আসলে বর্ণনা করা যায় না। ফুটপাতের দখল চাঁদাবাজি নিয়েও মানুষ অতিষ্ঠ থাকতো। কিন্তু এখন আর এগুলোর বালাই নেই। ভালোই লাগছে।

mirpur-bangla-tribune2

তিনি বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ভালো। এলাকার বাসিন্দারা শান্তিতে থাকতে পারবে। নয়তো আবার দখল হয়ে গেলে মানুষের মাঝে আবার অশান্তি চলে আসবে। আমরা চাই স্থায়ীভাবে এভাবেই থাকুক।  

মিরপুর-১০ গোলচত্বর মোড় থেকে হাতের বাঁদিকে গেছে মিরপুর-১-এর রাস্তা। স্টেডিয়াম পার হয়ে আরও সামনে গেলেও কোন হকার চোখে পড়বে না। অর্থাৎ ফুটপাতে কোনও দোকান নাই। প্রশস্ত রাস্তার যে অনুভব সেটিই পাওয়া যাচ্ছে।   

স্থানীয় সেলিম মিয়া বলেন, আগে মিরপুর-১০ কেমন ছিল আর এখন কী? ভাবতেই অবাক লাগে। যেখানে মানুষ চলতে পারতো না সেখানে এখন পুরো রাস্তা খালি।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে এরকম ভূমিকা নিতে হবে। যারা রাস্তা দখল করে দোকান করে তাদের উচ্ছেদ করতে হবে। মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা উন্মুক্ত করতে হবে।

mirpur-bangla-tribune1

আবির হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। আগে সকাল থেকেই মধ্যরাত পর্যন্ত চলাই যেত না। সেই অবস্থা বদলেছে। স্কুলের ছেলে-মেয়েরা সুন্দরভাবে হেঁটে স্কুলে আসতে পারে। আর পুরনো সেই জ্যামও নেই। সব মিলিয়ে এখন খুব ভালো পরিবেশ এখানে।

ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান কেন্দ্র করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অভিযান চলাকালে একটি দোকানে আগুন লাগাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে হকারদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় রণক্ষেত্র হয় পুরো এলাকা। বিকালের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদ চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুনে বাইতুল কুদ্দুস জামে মসজিদের নিচে থাকা ছয় থেকে সাতটি দোকান পুড়ে যায়। এ ঘটনায় হকার ও ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে হকাররা সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন, একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়লে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হকাররাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন।

এ ঘটনায় সাংবাদিক, পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মী, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই আহত হন।