পুরান ঢাকায় অগ্নিঝুঁকি কমাতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান ডিএসসিসি প্রশাসক

আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা, অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার এবং পুরান ঢাকার নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে মার্কেট ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে ডিএসসিসির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকা ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অঞ্চল। অতীতে রাসায়নিকের কারণে এখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাই প্রতিটি মার্কেট ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সময় ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রবেশের পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, পুরান ঢাকার অনেক সড়ক দোকানপাট ও অবৈধ দখলের কারণে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এলাকার অবকাঠামোগত ও নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন ও সড়কের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সড়কবাতি সচল রাখা ও পরিচ্ছন্নতা জোরদারের মাধ্যমে পুরান ঢাকার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি করপোরেশন কাজ করবে। এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মৌলভীবাজার, চকবাজার, সোয়ারীঘাট ও সদরঘাটের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু সমস্যার কথা না বলে সমাধানের পরামর্শও দিতে হবে। তাদের সুচিন্তিত মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নগরের সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপরও জোর দেন তিনি।

সভায় ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা মেনে চলা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইন নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।