মন্দিরে মন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা (কালী) পূজা ও দীপাবলি।
এ উপলক্ষে রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীর পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলো সেজে ওঠে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায়।
এদিন গভীর রাতে পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
হিন্দু পঞ্জিকা মতে, কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে শ্যামা পূজা ও দীপাবলি অনুষ্ঠিত হয়।
কালীপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সন্ধ্যায় তাদের বাড়ি ও শ্মশানে প্রদীপ জ্বালিয়ে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন। প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করার এই আচারই দীপাবলি নামে পরিচিত।
হিন্দু পুরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তিরূপ। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা মূলত শক্তির পূজা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের বন্দনা করা হয় এই পূজায়। দেবী কালী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুণ্ডী, ভদ্রকালী ও দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শ্যামা পূজা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। সেখানে পূজার পাশাপাশি দীপাবলি অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে সহস্র প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।
এদিকে রমনা কালী মন্দির, আজিমপুর সরকারি আবাসন মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, সবুজবাগ শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিঁও ঠাকুর মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান এবং তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার ও বাংলাবাজার এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।