মহাসচিব প্রার্থী জাকারিয়া কাজলের অভিযোগ, ‘মহাসচিব না জেনে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন স্থগিত করেছেন। শ্রম আদালত থেকে নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, ‘আপনারা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) অপরিবর্তিত, পূর্ণাঙ্গ ও সবশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ করবেন।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই বিএফইউজে সভাপতি ও মহাসচিবকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে তালিকা দিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। এরপর আর এই তালিকা অনুযায়ী ভোটগ্রহণে কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মহাসচিব আপত্তি জানিয়ে বলেন, তার দেওয়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট হবে।’
জলিল-কাজল-মধু পরিষদের কাজল বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচনে শ্রম অধিদফতরের একজন প্রতিনিধি থাকার কথা। কিন্তু কমিটি এটা পাত্তা দেয়নি। প্রতিটি পদক্ষেপে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। না জেনে অথবা ইচ্ছাকৃত অবহেলা, দুটোই সমান অপরাধ। যাদের কারণে নির্বাচন স্থগিত হলো, তাদের ব্যাপারে আপনারা (সাংবাদিক) সিদ্ধান্ত নেবেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাদের ভোটাধিকার স্থগিত করা হয়েছে, তাদেরকে নিয়েই নির্বাচন করবো আমরা।’
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণ জানতে চাইলে সভাপতি প্রার্থী আবদুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন ব্যক্তির কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি যারা করেছেন, তাদের মধ্যে মহাসচিবই প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেছেন, তার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে তিনি আদালতে যাবেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশন আর এগোতে পারেনি।’
এ প্রসঙ্গে জাকারিয়া কাজল বলেন, ‘এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বলেছে, আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে, তাই নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তখন আমাদের আর কিছু বলার ছিল না। গত নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে, আমাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা দরকার। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রেখেই ভাবমূর্তিটা ফিরিয়ে আনতে চাই।’
গত কমিটির মাধ্যমে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘিত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘গত ২৯ নভেম্বর নির্বাচনটি হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে হয়নি? গঠনতন্ত্রে আছে— দেশে কোনও জরুরি অবস্থা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা দুর্ভিক্ষ হলে নির্বাচন পেছানো যায়। কিন্তু এ বছর নির্বাচন পেছানো হয়েছে কারণ ছাড়া।’
অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচন পেছানো হয়েছে কিনা এমন প্রসঙ্গে কথা বলেন বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ মধুসুদন মণ্ডল। তার ভাষ্য, ‘নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। আমরা নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই নির্বাচন চেয়ে আন্দোলন করেছি। সভা-সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু আমাদের কোনও কোনও নেতা এটা দীর্ঘস্থায়ী করেছেন। আমি তাদের নাম বলতে চাই না। এটা গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংগঠন এখন নিবন্ধিত হয়েছে। আর নিবন্ধিত সংগঠনের মেয়াদ তিন বছর। আমি বারবার বলেছি— নির্বাচন করেন, সদস্যদের সমর্থন নিয়ে তিন বছর থাকেন। কিন্তু এই কমিটিই ধরে রাখার চেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। তবে এই অশুভ শক্তিকে আমরা বিতাড়িত করতে সক্ষম হবো।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গত ৬ জুলাই শুক্রবার বিএফইউজে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ছিল। প্রার্থী হিসেবে সব প্রচারণা শেষ করেছি। শেষ সময়ে জানতে পারি, দুই প্রার্থীর মামলায় নির্বাচন স্থগিত করেছেন প্রথম শ্রম আদালত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রার্থীদের কাছে করণীয় জানতে চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি, সহ-সভাপতি, মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য লিখিতভাবে সম্মতি দেন। একপর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত ৫ জুলাইয়ের সভায় স্থগিত করা ভোটাধিকার বিষয়ে আপত্তি করেন মহাসচিব (ওমর ফারুক)।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহাসচিব প্রার্থী জাকারিয়া কাজল। এতে বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘যাদের স্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয়নি, নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। একইসঙ্গে গতিশীল সাংবাদিক স্বার্থ সংরক্ষণকারী সংগঠন বিএফইউজে’র দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’